খেজুরের রস পানে সতর্ক থাকুন

শীত এলেই দেশের মানুষের মধ্যে খেজুরের রস পানের ধুম পড়ে যায়। শহর থেকে মানুষ গ্রামের বেড়াতে যায় শীতের আমেজ পূর্ণভাবে উপভোগ করতে। এ সময় গাছিরা খেজুরগাছের ডালপালা পরিস্কার করে গাছের কাণ্ড চেঁছে তাতে চোঙা বসিয়ে মাটির হাঁড়ি, বড় বোতলের মুখ কেটে চোঙার সঙ্গে লাগিয়ে রস সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যায় লাগালে সারারাতে ফোঁটা ফোঁটা রস জমা হয়ে রাত শেষে প্রতি গাছ থেকে ছয়-সাত লিটার রস পাওয়া যায়। শীতের কুয়াশা জড়ানো ভোরে গাছিরা রসের হাঁড়ি গাছ থেকে নামান। এ সময় অনেকেই সরাসরি কাঁচা রস পান করেন। কারণ কাঁচা অবস্থায় রসে আসল স্বাদ পাওয়া যায়।

খেজুরের রস চুলায় জ্বাল দিয়ে সিরাপ, পায়েস, ক্ষীর ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এ ছাড়াও রস দীর্ঘ সময় ধরে জাল দিয়ে এর থেকে তৈরি ঝোলাগুড়, পাটালিগুড় ইত্যাদি সারাবছর বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু কাঁচা রস সরাসরি পান করা নিরাপদ নয়। কারণ হাঁড়িতে জমা হওয়া রসের প্রতি অন্যান্য প্রাণীরও আকর্ষণ থাকে। বিষধর সাপ, বাদুড় ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ কাঁচা রসের মিষ্টি গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে হাঁড়ি থেকে রস পান করে। এতে হাঁড়ির রস বিষাক্ত হয়ে অনেক সময় মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতার বিকল্প নেই। কাঁচা রস পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ঝুঁকি এড়াতে কাঁচার পরিবর্তে জ্বাল দিয়ে রস খাওয়া ভালো।

শাকিবুল হাসান,
শিক্ষার্থী, বরেন্দ্র কলেজ, রাজশাহী

নেত্রকোনায় হিমাগার চাই

বাংলাদেশের সর্বউত্তরে অবস্থিত জেলাগুলোর একটি নেত্রকোনা। ঢাকা থেকে দূরবর্তী হওয়ায় এটি সর্বদাই অবহেলিত। বিশাল এ জেলায় বিপুল পরিমাণ শাকসবজি উৎপাদিত হয়, যা জেলার অভ্যন্তরের জনগণের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। কিন্তু হিমাগার না থাকায় নেত্রকোনায় উৎপাদিত সবজির ২৫ শতাংশই নষ্ট হচ্ছে। ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, নেত্রকোনায় প্রতি বছর সোয়া দুই লাখ টনের মতো সবজি উৎপাদিত হয়। কিন্তু হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ১০টি উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা জেলার আয়তন দুই হাজার ৮১০ বর্গকিলোমিটার। কৃষিজমির পরিমাণ চার লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর। জেলার ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। জনসংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। গ্রামবাংলার সাধারণ কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারের উচিত অবিলম্বে নেত্রকোনায় কয়েকটি হিমাগার স্থাপন করা।

আবুল হোসাইন
কেন্দুয়া, নেত্রকোনা

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান

ষড়ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এদেশে মূলত পৌষ ও মাঘ মাসকে শীত ঋতু বলা হয়। যদিও অগ্রহায়ণ থেকেই শীতের আমেজ শুরু হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে জনজীবন। শীতকালে গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষ অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন। বাংলাদেশ শীতপ্রধান দেশ না হলেও প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে শীত আসে। তবে এ দেশের গ্রামের অসহায় মানুষের জন্য শীতের কোনো প্রস্তুতি থাকে না। ফলে এই শীত হয়ে ওঠে অনেকের জন্য দুর্ভোগের কারণ। হাড়কাঁপানো শীতে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের অভাবে অনেক কষ্টে থাকেন তারা। বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছেন যারা রেললাইনের ধারে, ফুটপাতে কিংবা বস্তিতে বসবাস করেন। তাদের নেই নিজস্ব বাড়ি, জায়গাজমি। সম্মিলিত প্রচেষ্টাতে শীতের কষ্ট থেকে দরিদ্র মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব।

সিনথিয়া সুমি
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ

ইবির গেটের সামনে গতিরোধক চাই

স্বাধীনতাপরবর্তী দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এর মেইন গেটের সামনে দিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক চলে গেছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহনসহ হাজারো যাত্রীবাহী পরিবহন চলে এ ছাড়াও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতায়াত করছেন সড়কের এপার থেকে ওপারে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে কোনো গতিরোধক না থাকায় প্রতিনিয়ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। তা রূপ নিচ্ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে গতিরোধক অত্যন্ত জরুরি। এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

রাকিবুল হাসান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

রক্তদানে উৎসাহিত হই

স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্তের বিনিময়ে একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষা পায়। তবে আমাদের দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান এখনও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। পেশাদার রক্তদাতা অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত রক্ত দান করে থাকে। কিন্তু এসব পেশাদার রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মধ্যে অনেকে নেশাগ্রস্ত, বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে। তাই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী ব্যক্তিদের রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু রক্তদানের কথা শুনলে অনেকে চমকে ওঠেন। মনে করেন, রক্তদানে স্বাস্থ্যহানি ঘটে। এসব ধারণা নিতান্তই অমূলক। আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত রক্ত তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো রক্ত অকেজো হচ্ছে। রক্ত না দিলেও স্বাভাবিক নিয়মে রক্তের অকেজো হয়ে যাওয়া কেউই ঠেকাতে পারবে না। তিন মাস অন্তর যে কোনো সুস্থ-সবল মানুষ রক্তদান করতে পারে।

রামিছা বিলকিছ জেরিন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন