দর্শক নাটকে গল্প দেখতে চায়

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

চঞ্চল চৌধুরী। অভিনেতা ও মডেল। এনটিভিতে প্রচার হচ্ছে

তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক 'সোনার খাঁচা'। সাগর জাহান পরিচালিত এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-



সমসাময়িক অন্যান্য ধারাবাহিক থেকে 'সোনার খাঁচা' কতটা আলাদা?

অনেকটাই আলাদা। নাটকটির রচয়িতা বৃন্দাবন দাসের বেশিরভাগ গল্পে আলাদা ধরন থাকে। সুস্থ বিনোদনের জন্য তার স্ট্ক্রিপ্টের জুড়ি নেই। আমাদের এখানে বেশিরভাগ নাটকেই গল্প পাওয়া যায় না। বর্তমানে নাটকে চরিত্র থাকে দুই-তিনটি। এই ধারাবাহিকে পরিবার দেখানো হয়েছে। প্রত্যেকটি চরিত্রই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দর্শক গল্প দেখতে চায়। নাটক বলতে বুঝায় গল্পকে ঠিকঠাক উপস্থাপন করা। সেই জিনিসটা নাটকে আছে। সবকিছু মিলিয়ে ধারাবাহিকটি গতানুগতিক ধারা থেকে অন্যরকমই মনে হয়েছে।

বিটিভির নিজস্ব প্রযোজনার ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

প্রতিবছরই বিটিভির এক ঘণ্টার নাটকের পাশাপাশি ধারাবাহিকেও অভিনয় করছি। তবে প্রথবারের মতে বিটিভির নিজস্ব প্রোডাকশনের একটি নাটকে অভিনয় করলাম। মামুনুর রশীদের লেখা 'কালের যাত্রা' নাটকটি নির্মাণ করছেন আকরাম খান। তার নির্মাণে সুখ্যাতি রয়েছে। গল্পটা মামুনুর রশীদের 'কালের যাত্রা' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। এটা মফস্বলের নাটকের দলের একটা ঘটনা। দলের বিভিন্ন টানাপড়েন দেখানো হয়েছে। ঢাকার শুটিং হাউসের পরিবেশ কাজ করার অনুপযোগী। আর আউটডোরে গেলে অনেক ধরনের সমস্যা হয়। সেসব দিক থেকে বিটিভির কাজে বেশ আরাম। বিটিভিতে সেট পেতে শুটিং হয়েছে। গল্প-চরিত্র সবকিছু মিলিয়ে কাজের অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো ছিল।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

ঈদের নাটক নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এবারের ঈদে বেশ কয়েকটি খণ্ড ও ধারাবাহিক নাটকে দর্শক আমাকে ভিন্নভাবে আবিস্কার করতে পারবে। প্রচার চলতি 'সোনার খাঁচা' ধারাবাহিকের পাশাপাশি মাসুদ সেজানের 'খেলোয়াড়' নাটকে কাজ করছি। ঈদের জন্য সাগর জাহানের পরিচালনায় 'হেভিওয়েট মিজান' নামে সাত খণ্ডের একটি ধারাবাহিকের কাজ সম্প্রতি শেষ করেছি। এ ছাড়া সকাল আহমেদ, মাসুদ সেজান, ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, আবু হায়াত মাহমুদ, সুমন আনোয়ারের নাটকেও আমাকে দেখা যাবে।

ঈদে টিভি চ্যানেলগুলোতে কমেডি নাটকের আধিক্য দেখা যায়। এ প্রবণতা আপনার কাছে কেমন মনে হয়?

অনেকেরই ধারণা, দর্শক শুধু হাসির নাটক দেখতে চায়। কিন্তু আমি মনে করি, দর্শক ভালো গল্পের নাটক দেখতে চায়। সেটি হতে পারে হাসির অথবা কান্নার। কমেডির নামে বেশিরভাগ নাটক ভাঁড়ামিতে পরিপূর্ণ থাকে। এখনও হাসির নাটক নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু গত দুই বছর ধরে দর্শকরা সিরিয়াস গল্পের নাটকগুলো বেশ ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। সিরিয়াসধর্মী নাটকগুলো ভিউয়ারের তালিকায় ওপরের স্থান দখল করে নিয়েছে।