মঞ্চের জন্য আলাদা করে সময় হাতে রাখি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

শহীদুজ্জামান সেলিম। অভিনেতা ও নির্মাতা। 'ঘরে বাইরে', 'ফুল এইচডি'সহ বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার একাধিক নাটক। পাশাপাশি কাজ করছেন মঞ্চে। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

একাধিক ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। এতে কি বাছবিচার করে কাজ করার সুযোগ থাকছে?

খুব যে বাছবিচার করে কাজ করতে পারছি, তা নয়। সবসময় পছন্দসই গল্প বা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া যায়- বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু কাজ করছি, কারণ অভিনয় পেশা। আর এটা যেহেতু সম্মিলিত কাজ, তাই কারও একার পক্ষে ভালো কিছু করে দেখানো সম্ভব নয়। যে গল্প আমার কাছে ব্যতিক্রমধর্মী মনে হচ্ছে না, সেটাই হয়তো অনেকের ভালো লাগছে বা সময়োপযোগী মনে হচ্ছে। তাছাড়া ধারাবাহিক নাটকের গল্প কখন কোন্‌দিকে মোড় নেবে, সেটাও আগে থেকে বলা যায় না; অন্তত যে নাটকের স্ট্ক্রিপ্ট পুরোপুরি শেষ হয়নি। নাট্যকার, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও নাটকের সঙ্গে জড়িত অনেকে যখন ভালো কিছু করেন, তখনই তা দর্শকের কাছে আলাদা বলে মনে হয়। তার চেয়ে বড় কথা, কম বাজেটে সবসময় ভিন্নধর্মী কাজও তুলে ধরা সম্ভব নয়। কিন্তু এতকিছুর পরও অনেক কাজ প্রশংসা পাচ্ছে, এটাই বা কম কী?

আপনার ধারাবাহিক নাটকগুলো নিয়ে দর্শকের কী প্রতিক্রিয়া?

প্রতিদিনের কাজের ভিড়ে সেভাবে খোঁজ নেওয়া হয় না। শুনেছি, 'ঘরে বাইরে', 'ফ্যামিলি ক্রাইসিস', 'ঘুমন্ত শহরে', 'ফুল এইচডি'সহ অন্য নাটকগুলো টিভিতে না হলেও আজকাল অনেকে ইউটিউবে দেখেন। মাধ্যম বদলেও যদি দর্শক নাটক দেখেন, তাহলে সেটাকে ইতিবাচক বলেই ধরে নিতে হবে।

অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণেই কি নাটক নির্মাণের দিকে মনোযোগ দিতে পারছেন না?

অভিনয়ের ব্যস্ততা আছে এটা ঠিক, কিন্তু এ কারণে পরিচালনা করতে পারছি না- এটা ভাবলে ভুল হবে। অভিনয়ের মতো পরিচালনার বিষয়ে আমি একটু খুঁতখুঁতে স্বভাবের। ঠিক যেভাবে কাজ করতে চাই, সেভাবেই পরিকল্পনা সাজাই। সে পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু এভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পুরোপুরি না পাওয়ায় অনেক দিন পরিচালনা করা হয়ে ওঠেনি। কারণ পরিচালক হিসেবে আমি শিল্পী ও কলকুশলীর কাছে তার সেরা কাজটাই চাই। একইভাবে যার পরিচালনায়ই অভিনয় করি না কেন, নিজের দিক থেকে চরিত্রকে পর্দায় বাস্তব করে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। অনেক প্রতিকূলতা নিয়ে এখনকার নির্মাতারা নাটক, টেলিছবি নির্মাণ করছেন, তাই কিছু বিষয়ে ছাড় দিয়ে হলেও চাই, কাজ ভালোভাবে শেষ হোক।

নাটকের পাশাপাশি ওয়েব সিরিজের কাজ নিয়েও ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। কতটা সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে ওয়েব সিরিজগুলো?

কিছুদিন পর ওয়েব সিরিজ দর্শকের বিনোদনের নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়াবে; অন্তত এ সময়ে এসে তারই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাজেটের অভাবে মানসম্পন্ন নাটক নির্মাণ করতে পারছেন না অনেকে। কিন্তু ওয়েব সিরিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। পর্যাপ্ত বাজেট নিয়ে একেকটি ওয়েব সিরিজ তৈরি হচ্ছে। নির্মাতারা যথেষ্ট সময় ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজ করতে পারছেন। আয়েরও আলাদা একটা উৎস তৈরি হয়েছে। যেজন্য অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ওয়েব সিরিজের কদর বাড়ছে।

অভিনেতা হিসেবে আপনার কাছে নাটক বা চলচ্চিত্র থেকে ওয়েব সিরিজগুলো কতটা আলাদা বলে মনে হয়েছে?

ওয়েব সিরিজের আলাদা কোনো সংজ্ঞা আছে কি-না তা আমার জানা নেই। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি যে, গল্প তুলে ধরার বিষয়ে ওয়েব সিরিজ হলো নাটক ও সিনেমার মতো একটি মাধ্যম। কিন্তু এতে দর্শক কিছুটা সিনেমা ও কিছুটা নাটকের স্বাদ পাচ্ছেন। কিন্তু তা পুরোপুরি নাটক বা সিনেমার মতো নয়।

মঞ্চের খবর বলুন। টিভি নাটক, চলচ্চিত্র আর ওয়েব সিরিজের ব্যস্ততায় মঞ্চের জন্য সময় বের করতে পারছেন?

যত ব্যস্তই থাকি না না কেন, মঞ্চের জন্য আলাদা করে সময় হাতে রাখি। দর্শক তাই মঞ্চের কাজে আমাকে বড় কোনো বিরতি নিতে দেখননি।

মঞ্চের নতুন কোনো নাটক নিয়ে ভাবছেন?

আহমদ ছফার 'মরণ বিলাস' উপন্যাস নিয়ে নাটক করতে চাইছি কয়েক বছর ধরে। কিন্তু এখনও তা হয়ে ওঠেনি। তবে নতুন নাটকের পরিকল্পনা থেমে নেই।

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক