পার্থ বড়ূয়া। তারকা কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। চার দশকের সংগীত ক্যারিয়ারে এই প্রথম প্রকাশ করেছেন একক অ্যালবাম। পাশাপাশি সুর ও সংগীত পরিচালকদের অধিকার আদায়ে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। সেসব প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

বহুবার বলেছেন, একক অ্যালবাম প্রকাশের ইচ্ছা নেই। এখন কেন হঠাৎ একক অ্যালবাম তৈরি করা?

ত্রিশ বছর ধরে সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে আছি। জনপ্রিয়তা, পরিচিতি সবই পেয়েছি ব্যান্ডশিল্পী হিসেবে। এ জন্য ব্যান্ডের বাইরে এককভাবে নিজের জন্য কিছু করতে চাইনি। এর মধ্যে নিজে কিছু গান করেছি, যেগুলো একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের। নিরীক্ষাধর্মী এ গানগুলো শুনে সেগুলো একক গান বা অ্যালবাম হিসেবে প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। ব্যান্ড সদস্যরাও একক অ্যালবাম নিয়ে আপত্তি করেনি। তাই এতদিন যা চাইনি শেষ পর্যন্ত সেই একক অ্যালবাম তৈরি হয়েই গেল।

সোলসের বাইরে কাজ করতে চাননি। তার পরও অসংখ্য মিক্সড অ্যালবামে গান করেছেন...

মিক্সড অ্যালবামে গান গাইলেও সোলসের পার্থ বড়ূয়া হিসেবে আমার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আর বেশিরভাগ গানই গেয়েছি বিভিন্ন সুরকারের সুর-সংগীতে। এগুলো এককভাবে করা কোনো কাজ নয়। নিজের সংগীত পরিচালক হিসেবেও অনেকের গান তৈরি করেছি। কিন্তু সবসময় আমার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে সোলসের সদস্য হিসেবে।

অ্যালবামের নাম 'মুখোশ' কেন?

ভেতরের মানুষটিকে লুকিয়ে রাখতে আমরা অনেকেই এক ধরনের মুখোশ পরে থাকি। গানের কথায় সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অন্যান্য গানের মতো প্রেম, বিরহ এই অ্যালবামে স্থান পায়নি। 'শহর ও মেঘদল', 'টং-এর দোকান', 'মুখোশ', 'বৃষ্টির গান', 'নস্টালজিয়া'- প্রতিটি গান আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি করা। সুর ও সংগীতায়োজন নিয়েও অনেক নিরীক্ষা চালানো হয়েছে।

অনেকদিন ধরে শুনছি সোলসের নতুন অ্যালবামের কাজ করছেন। কাজ কি এখনও শেষ হয়নি?

সোলসের নতুন অ্যালবামের কাজ অনেক আগেই শেষ করেছি। করোনায় সব কিছু থমকে না গেলে হয়তো অ্যালবাম প্রকাশ করেও ফেলতাম। কিন্তু এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

সুরকার ও সংগীত পরিচালকরা জোটবদ্ধ হয়ে 'মিউজিক কম্পোজারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ' গঠন করলেন। এই সংগঠন নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

কপিরাইট ইস্যুসহ মিউজিশিয়ানরা সবসময় যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করব। এরপর পেশাদারি জায়গায় আমরা যারা নানাভাবে বঞ্চিত, তাদের স্বার্থও দেখা হবে। আমাদের সৃষ্টি নিয়ে কিছু মানুষ অর্থের পাহাড় গড়বে, আর আমরা যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হব- এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই নিজ অধিকার আদায়ের জন্যই জোট বেঁধেছি আমরা। শুধু সুরকার ও সংগীত পরিচালক নন, শিল্পী ও গীতিকাররাও এখন জোটবদ্ধ হয়েছেন। আরও আগে হলে ভালো হতো, তার পরও দেরিতে হলেও সৃষ্টিশীল মানুষ জোটবদ্ধ হচ্ছেন- এটা আশার আলো দেখাচ্ছে।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ আসি- আবার কি আপনাকে অভিনয়ে দেখা যাবে?

অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি অনেক আগে। অমিতাভ রেজার জন্যই শুধু 'আয়নাবাজি' সিনেমা ও সিরিজে অভিনয় করেছি। নিয়মিত করার কোনো ইচ্ছা আপাতত নেই।

মন্তব্য করুন