নুসরাত ইমরোজ তিশা। তারকা অভিনেত্রী ও মডেল। আসছে ঈদে বেশ কয়েকটি নাটক, টেলিছবিতে দেখা যাবে তাকে। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

ঈদের নাটক, টেলিছবি নিয়ে অনেকে যখন ব্যস্ত, তখন আপনাকে নীরব থাকতে দেখা গেছে। এর কারণ কী?

ব্যস্ততা সবে শুরু হলো। কারণ, 'বঙ্গবন্ধু' ছবির শুটিং করে কিছুদিন আগে মুম্বাই থেকে ঢাকায় ফিরেছি। এর পর করোনার কারণে বেশ কিছুদিন কোনো নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় করিনি। নির্বাচিত কিছু কাজ আছে, যেগুলো এর মধ্যে শেষ করব। আজ থেকে শিহাব শাহীনের পরিচালনায় 'সে বউয়ের টাকায় চলে' নামে একটি নাটকের শুটিং শুরু হবে। এক যুগ পর এই নাটকের মাধ্যমে দর্শক অপূর্বর সঙ্গে আমাকে জুটি হিসেবে দেখবেন। এর পাশাপাশি ঈদে আরও কিছু নাটক, টেলিছবিতে দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন।

আজকাল অভিনয় ছাড়াও উপস্থাপনায় দেখা যাচ্ছে। উপস্থাপনার প্রতি দুর্বলতা কি আগে থেকেই ছিল?

উপস্থাপনার ইচ্ছা একদম ছিল না। সেলিব্রিটি গেম শো 'দ্য বক্স'-এর ভাবনা নতুন মনে হয়েছে বলেই উপস্থাপনা করছি। তার আগে পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা, কীভাবে এটি দর্শকের সামনে তুলে ধরা হবে, কারা অংশ নেবেন- সেসব নিয়ে কয়েকবার নির্মাতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারপরই উপস্থাপনা শুরু করেছি। কারণ উপস্থাপকরা যেভাবে গুছিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন, কথার জাদুতে মুগ্ধ করে রাখেন দর্শককে, সেটা ঠিকভাবে পারব কিনা; তা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান ছিলাম। যে জন্য উপস্থাপনা নিয়ে আগে কখনও ভাবিনি। টিভি অনুষ্ঠানে ছোটবেলায় উপস্থাপনা করলেও পরে আর এ নিয়ে ভাবিনি। মডেলিং, অভিনয়েই সময় দিয়েছি।

যেসব সিনেমায় কাজ করছিলেন, সেগুলোর শুটিং কি থেমে আছে?

করোনা পরিস্থিতির কারণে এই মুহূর্তে শুটিং বন্ধ। 'বঙ্গবন্ধু', 'ভালোবাসা বীরকন্যা প্রীতিলতা', 'রক্তজবা'- তিনটি ছবির কিছু কাজ হয়েছে, বাকি কাজ পরিস্থিতি বুঝে শেষ করবেন বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন।

কাজের অভিজ্ঞতায় এখনকার সিনেমা কতটা ভিন্ন ধরনের বলে মনে হয়েছে?

শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় 'বঙ্গবন্ধু' ছবিতে কাজ করে মনে হয়েছে, আমিও ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী রেণুর [শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব] চরিত্রে অভিনয় করছি। এই চরিত্রের ২০ বছর বয়স থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে দেখা যাবে। অন্যদিকে প্রদীপ ঘোষের 'ভালোবাসা বীরকন্যা প্রীতিলতা' ছবিতে দেখা যাবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের চরিত্রে। এই প্রথম একসঙ্গে পর্দায় তুলে ধরেছি ঐতিহাসিক দুই নারীকে। এ দুই চরিত্রে অভিনয় করতে পারা যে কোনো শিল্পীর জন্য অন্য রকম প্রাপ্তির। একই সঙ্গে এমন ঐতিহাসিক চরিত্রে কাজ চ্যালেঞ্জিং। এ দুই ছবির পাশাপাশি 'রক্তজবা' নিয়েও আশাবাদী। কারণ, এর গল্প ও চরিত্র আমার আগের ছবিগুলো থেকে ভিন্ন ধাঁচের, যা দর্শকের মনে ছাপ ফেলবে বলে মনে করি।

আপনার সিনেমাগুলো অ্যাপসেও মুক্তি পাচ্ছে...

এটা সময়ের দাবি বলেই নির্মিতারা সিনেমা হলের পাশাপাশি অ্যাপসে ছবি মুক্তি দিচ্ছেন। এর আগে 'ডুব' মুক্তি পেয়েছে নেটফ্লিক্সে। এবার 'হালদা' এই ঈদে বায়োস্কোপ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে।

মন্তব্য করুন