রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। আজ ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে একাধিক টিভি অনুষ্ঠানে গাইবেন তিনি। আজকের আয়োজন, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হলো তার সঙ্গে-

রবীন্দ্রজয়ন্তী কীভাবে উদযাপন করবেন?

গানে গানে বিশ্বকবিকে জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাব। এদিন দেশজুড়ে একটা উৎসবের আমেজ থাকে। নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। করোনার কারণে আয়োজন থাকবে সীমিত। আমরা যারা রবীন্দ্রপ্রেমী, তাদের নানা আয়োজনে অংশ নিতে হয়। অনলাইনে বেশি আয়োজন হবে। চ্যানেল আইয়ে প্রচার হবে আমার একক সংগীতানুষ্ঠান 'সকল কাঁটা ধন্য করে ফুল ফুটবে'। এটি প্রচার হবে রাত সাড়ে ৮টায়। এ ছাড়া বিটিভির একটি আয়োজনেও গান গাইব। নির্বাচিত গানগুলো বেশ কয়েক দিন আগে রেকর্ড করা হয়েছে। ২৫ বৈশাখ নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো নানা ধরনের আয়োজন করে। এবারও তেমন কিছু অনুষ্ঠানে আমার গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত প্রচার করবে বলে শুনেছি। এ ছাড়াও সকাল সাড়ে ১১টায় রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত 'সীমার মাঝে অসীম তুমি...' শীর্ষক এক অনলাইন আয়োজনে অংশ নেব।

কী কী গান থাকবে আজকের আয়োজনে?

চ্যানেল আইয়ের আয়োজনে 'সকল কাঁটা ধন্য করে ফুল ফুটবে', 'আমি ভয় করব না', 'বাইরে ভুল ভাঙবে যখন', 'খোল খোল দ্বার', 'এ পথে আমি যে' গানগুলো শ্রোতারা আমার কণ্ঠে শুনতে পাবেন। এ ছাড়া বিটিভির অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের গান গাইব। নির্বাচিত গানগুলো শ্রুতিমধুর, যা অনেকের ভালো লাগবে।

কবিগুরুর গানের এমন কী সম্মোহনী জাদু আছে, যা শতবর্ষ পরেও সবার মনে অনুরণন তুলে যাচ্ছে?

রবিঠাকুরের গানের কথা ও সুরে শ্রোতাদের কাছে টানার মন্ত্র আছে। আরও সহজভাবে বললে, সহজ কথায় মোলায়েম সুরে বিশ্বকবি তার গানগুলো সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এই সহজ কথার গভীরে সূক্ষ্ণভাবে তিনি জীবনবোধ তুলে ধরেছেন। আরেকটি বিষয় হলো, রবীন্দ্রসংগীত স্বরলিপিনির্ভর, যার জন্য এর সুর কখনও বিকৃত হয়নি। রবীন্দ্রনাথের গানের বাণী আমাদের মন আন্দোলিত করে, প্রেম-প্রকৃতি, নিসর্গ থেকে শুরু করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু আছে সবকিছু নিয়ে ভাবতে শেখায়। অন্যদিকে তার গানে-সুরে কোমলতা আছে, তা যে কারও হৃদয় স্পর্শ করার মতো। এ কারণে রবিঠাকুরের সৃষ্টি শত বছর পরেও সমকালীন।

'কণ্ঠশিল্পী পরিষদ বাংলাদেশ'-এর আহ্বায়ক আপনি। সংগঠন নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা কী?

আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে বেশি দিন হয়নি। করোনার কারণে অনেক কিছুই পিছিয়ে যাচ্ছে। গঠনতন্ত্র প্রণয়নের বিষয়ে ভাবছি। এখন কপিরাইট নিয়ে কাজ করছি। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের সৃষ্টি তার এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের একমাত্র সম্পদ। তা সংরক্ষণের জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব।

একটি লোকগানের অ্যালবাম করার কথা বলেছিলেন?

হ্যাঁ, অ্যালবামের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। আটটি গানের মধ্যে পাঁচটি গান রেকর্ড করেছি। গানগুলোর মিউজিক করেছেন কলকাতার পুলক। এতে আমার কণ্ঠে শাহ আবদুল করিম, রাধারমণ, হাসন রাজাসহ অনেকের গান থাকবে।

আপনার গানের স্কুল সুরের ধারার কার্যক্রম কেমন চলছে?

ভালো। আগে শুধু সুরের ধারার শিক্ষার্থীদের ঢাকাতেই গান শেখাতাম। কিন্তু এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে গান শেখাচ্ছি। আর সুরের ধারার নিয়মিত ক্লাস অনলাইনে হচ্ছে। ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সেশনে শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছি।

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

মন্তব্য করুন