শবনম বুবলী। অভিনেত্রী ও মডেল। সম্প্রতি 'রিভেঞ্জ' নামে একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। ঈদের পর শুটিং করবেন তপু খানের 'লিডার আমিই বাংলাদেশ' ছবির। এ ছাড়া সমসাময়িক ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে প্রায় প্রতি ঈদে প্রেক্ষাগৃহে আপনার সিনেমা মুক্তি পায়। করোনার কারণে হলে কোনো সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে না। মন খারাপ হয় না?

কিছুটা মনোবেদনা তো আছেই। প্রায় প্রতি ঈদে আমার নতুন ছবি মুক্তি পেত। ফলে ঈদের খুশির সঙ্গে বাড়তি খুশি যোগ হতো। আমি নিজের সিনেমা দেখতে যেতাম, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পেতাম। অনেকে সিনেমা দেখে ফোন করত। করোনার কারণে কোনো সিনেমাই মুক্তি পাচ্ছে না। আমার মতে, আগে সুস্থ জীবন, পরে বিনোদন। তাই ঈদে নিজের সিনেমা মুক্তি না পেলেও খারাপ লাগছে না। মানুষ আগে সুস্থভাবে করোনা পরিস্থিতি পার করুক। সামনে আমাদের জন্য সুন্দর সময় অপেক্ষা করছে।

মুক্তির জন্য প্রস্তুত আপনার অভিনীত কী কী ছবি রয়েছে?

'বিদ্রোহী' ছবিটি ঈদে মুক্তির কথা ছিল। এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে 'ক্যাসিনো' আসত হয়তো। এদিকে সম্প্রতি 'চোখ' ছবিটির শুটিং ডাবিং শেষ করেছি। 'চোখ'ও এখন মুক্তির জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছি 'রিভেঞ্জ' ছবিতে। আর 'লিডার আমিই বাংলাদেশ' ছবিটিও ঈদের আগেই শুটিং শুরুর কথা ছিল কিন্তু করোনার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

শাকিব খানের হাত ধরে আপনার সিনেমায় যাত্রা। তার সঙ্গেই কাজ করতে বেশি দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমানে শাকিবের বাইরে অভিনয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে...

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বলে আসছি ভালো গল্পের ছবি ও বড় আয়োজন হলে শাকিব খানের বাইরে অন্য হিরোদের বিপরীতেও আমাকে দেখা যাবে। 'ক্যাসিনো', 'চোখ' ছবির গল্প, অ্যারেঞ্জমেন্ট সবই দারুণ। তাহলে কেন আমি এই ছবিগুলো করব না। আমি একজন অভিনেত্রী, ভালো কাজ হলে সবার সঙ্গেই কাজ করতে হবে। আমিও তাই সবার সঙ্গে কাজ হোক। সেটি অবশ্যই ভালো গল্পের, ভালো নির্মাতার, ভালো বাজেটের।

ঈদ কোথায় করছেন?

পরিবারের সবাই ঢাকাতে থাকে। তাই ঈদ এখানেই করা হয় আমার। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে বিগত বছরের মতো এবারের ঈদও আতঙ্ক নিয়ে কাটাতে হবে। তবে এই স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ আমরা এখনও সুস্থ এবং বেঁচে আছি। যদিও মানসিকভাবে শান্তিতে নেই কেউ, ঈদের আনন্দ নেই, আছে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার প্রার্থনা। তার পরও আমাদের সবাইকে ঈদে হাসতে হবে, খুশি ছড়িয়ে দিতে হবে। জানি না কবে পৃথিবী করোনামুক্ত হয়ে আবার সুন্দর হবে। কবে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেব আমরা। তাই এই সময়ে করোনাকে মেনে নিয়ে ঘরেই ঈদ উদযাপন করব।

গ্রামে ঈদ করার স্মৃতি নেই তাহলে আপনার?

ঢাকায় স্থায়ী হলেও ছোটবেলায় কোরবানির ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হতো। নানু-দাদু সবার সঙ্গে ঈদ করতেই গ্রামে যেতাম সবাই। এখন তারা কেউ বেঁচে নেই। তাই এখন আর খুব একটা গ্রামে যাওয়া হয় না।

মন্তব্য করুন