শহীদুজ্জামান সেলিম। নন্দিত অভিনেতা ও নির্মাতা। একাধিক নাটক, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার কাজ নিয়ে কাটছে তার ব্যস্ত সময়। এ সময়ের কাজের মান, অনলাইনের সম্ভাবনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

অভিনয়ের সব মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই অভিজ্ঞতায় টিভি, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বতর্মান অবস্থা কেমন বলে মনে হচ্ছে?

টিভি নাটকের অবস্থা একই রকম আছে। বাজেটস্বল্পতার কারণে অনেকেই পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে পারেছেন না। তারপরও নতুন নির্মাতার ভিড় লেগেই আছে। নির্মাণের কিছু জানুক বা না জানুক, কাজ তাদের করতেই হবে- এই পণ করেই যে নির্মাণে হাত বাড়িয়েছে। এজন্য হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া ভালো নির্মাতা চোখে পড়ছে না। অন্যদিকে একের পর এক হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিনেমা নির্মাণও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। অনলাইনে ছবি মুক্তি শুরু হওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে যদি বলতে হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে, এ সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো মান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

বড় বাজেটের কারণেই কি ওয়েব সিরিজগুলো দর্শক আলোচনায় আসছে?

বাজেট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তারচেয়ে বড় বিষয় হলো এখানে নির্মাতাদের তেমন কোনো বিধিনিষেধ মানতে হচ্ছে না। স্বাধীনভাবে তারা কাজ করে যেতে পারছেন। যেজন্য আমরা এমন সব কনটেন্ট দেখতে পাচ্ছি, যা আগে চোখে পড়েনি।

ওয়েব সিরিজ নিয়েও তো বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে?

হচ্ছে, এর কারণ কাজের বিষয়ে লাগামহীন পড়ার জন্য। সেন্সরশিপ নেই বলে ওয়েব সিরিজে যেটা ইচ্ছা সেটা তুলে ধরা যাবে না। আমাদের একটা প্রবণতা আছে, যখন আমরা নতুন কিছু পাই, তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ি। ওয়েব সিরিজের বিষয়েও এটা চোখে পড়ছে। একের পর এক নির্মাতা আসছেন, আর ওয়েব সিরিজের নামে যা পারছেন, সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার সস্তা জনপ্রিয়তার দিকেও ঝুঁকে পড়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে সেন্সরের বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপ শুরু হওয়াই স্বাভাবিক।

এবার কাজের প্রসঙ্গে আসি, নতুন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন জানতে চাই...

চলতি ধারাবাহিকের পাশাপাশি ঈদের বেশ কিছু নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় করছি। এর বাইরে কাজ করছি পরিচালক তপু খানের সিনেমা 'লিডার :আমিই বাংলাদেশ' এবং অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ওয়েব ছবি 'মুন্সিগিরি'তে। কিছুদিন আগে কাজ করেছি আসিফ ইকবালের 'চোখ' ছবিতে। 'সাইকো' নামের আরেকটি ছবির কাজ শুরু করেও শেষ করা হয়ে ওঠেনি।

নাটক বা সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কিছু ভাবছেন?

অনেক স্বপ্ন দেখার পর শেষ পর্যন্ত সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা জলাঞ্জলি দিয়েছি। অন্যরা যেসব বিষয় মেনে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করে যাচ্ছেন, নিজেকে তাদের দলে ফেলতে পারছি না। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার কারণেই সিনেমা নির্মাতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। মাঝে মাঝে নাটক নির্মাণ করলেও এ মুহূর্তে কোনো কিছুই নির্মাণের কথা ভাবছি না।

মঞ্চের কাজ কি একেবারেই থেমে আছে?

হল বন্ধ তাই নতুন কোনো শো নেই। গত বছর লকডাউনের সময়েও আমরা ভার্চুয়াল মহড়া দিয়েছি। তিন মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেও নতুন নাটক মঞ্চায়ন করেছি। কিন্তু ঢাকা থিয়েটারের নতুন প্রযোজনা 'একটি লৌকিক অথবা অলৌকিক স্টিমার' নাটকটির পাঁচটির বেশি শো করা সম্ভব হয়নি। আরেক দফা লকডাউনের কারণে সব পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়েছে। ইচ্ছা আছে, এই নাটকের আরও পনেরোটি শো করার। তারপর নতুন নাটক মঞ্চে নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে।

নতুন নাটকের কাজ কি শুরু করেছেন?

বেশ কয়েক বছর ধরেই বলছি, আহমদ ছফার উপন্যাস 'মরণ বিলাস' নিয়ে একটি নাটক করব। স্ট্ক্রিপ্টের কাজও চলছে অনেকদিন ধরে। দর্শকদের বারবার জানিয়েও এটি এখনও মঞ্চে আনতে পারিনি। এবার প্রতিশ্রুতি নয়, অন্য কোনো প্রযোজনার আগে এই নাটকের কাজ শেষ করতে চাই।
  রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

বিষয় : শহীদুজ্জামান সেলিম

মন্তব্য করুন