মোহাম্মদ রাব্বী মৃধা। তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৬তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার পরিচালিত প্রথম ছবি 'পায়ের তলায় মাটি নাই' অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে।

এ অর্জন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের 'আ উইন্ডো অন এশিয়ান সিনেমা' বিভাগে প্রদর্শিত হবে আপনার 'পায়ের তলায় মাটি নাই'। কেমন লাগছে?

এক কথায় বলতে গেলে দারুণ লাগছে। এমন অর্জনই যেকোনো নির্মাতার জন্য সম্মানের। বুসানের মতো মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে আমার প্রথম ছবি স্থান দেওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ। যদিও ব্যক্তিগত কারণে উৎসবে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারব না। তারপরও আমার ছবি সেখানে থাকা মানে আমারও থাকা।

কখনও কী ভেবেছিলেন, প্রথম ছবি এই সম্মান বয়ে আনবে?

কল্পনাও করিনি, আমার প্রথম সিনেমা এশিয়ার সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান পাবে। এখনও স্বপ্নের মতো লাগছে। এটি জীবনের একমাত্র ও বড় পাওয়া। ছবিটি উৎসবের জন্য নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকে মানুষের ভালোবাসায় আমি অভিভূত, আনন্দিত।

'পায়ের তলায় মাটি নাই' ছবির গল্প কী নিয়ে?

একেবারে সাধারণ মানুষের গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে একজন মানুষের জীবনে যে পরিবর্তনগুলো আসে তাই দেখানোর চেষ্টা করেছি। একজন মানুষের গ্রাম থেকে শহরে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যে সংগ্রাম করেন, তা দেখানো হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র সাইফুল। যিনি অ্যাম্বুলেন্স চালক। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তফা মনোয়ার। এই সাইফুল তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিকতার নানা দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। ছবিটির গল্প ও চিত্রনাট্যও আমি করেছি।

নিজের প্রথম কাজে এ ধরনের গল্প নিয়ে কাজ কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

আমি মধ্যবিত্ত পরিবারে মানুষ হয়েছি। যে কারণে সবসময় চ্যালেঞ্জ নিয়েই বেড়ে উঠতে হয়েছে। যখন আমি 'পায়ের তলায় মাটি নাই' ছবির কাজ শুরু করি, তখন অনেকেই বলেছেন এ গল্প চলবে না। এ ধরনের গল্প দেখার জন্য আমাদের দেশের দর্শকরা এখনও তৈরি নয়। সেই সময় হতাশাও বাসা বেঁধেছিল মনে। তবুও এগিয়েছি। ছবির প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন যখন সাহস দিলেন, তখন কাজটি শুরু করি। গত বছরের শুরুতে সিনেমার চিত্রনাট্যের প্রথম খসড়া তৈরি করি। এরপর কিছু কাটছাঁট করে চূড়ান্ত গল্প এবং আউটলাইন দাঁড় করাই। একসময়ে শুটিংয়ে যাই। এক বছরের সাধনার ফল ছবিটি। শুটিং করেছি করোনার মধ্যে। ছবিটির কাজ শুরুর আগে জানতাম না কীভাবে শুটিং শেষ হবে। নানান দেশের সিনেমা দেখে, বই পড়ে একটু একটু করে নিজেকে তৈরি করেছি। করোনার কারণে অনেক ছোট টিম নিয়ে কাজটি করেছি। ছবির প্রযোজকও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নানান বিষয় নিয়ে আমায় গাইড করেছেন। কাজে স্বাধীনতা দিয়েছেন। ছবিটি ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি। ছবির অভিনয় শিল্পীরাও তাদের সেরাটা দিয়েছেন বলেই এখন ফল পাচ্ছি।

বিনোদন অঙ্গনে আপনার শুরুটা হয়েছিল কীভাবে...

২০১৫ সালে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে মিডিয়া ক্যারিয়ারে অভিষেক হয়। এখন পর্যন্ত ২৫টির মতো বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেছি। বানিয়েছি বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিও। তবে ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল আড়ংয়ের বিজ্ঞাপন। পাশাপাশি কিছু মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে এতদূর পথ চলতে পেরেছি।

বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণের আগ্রহ কতটুকু?

সব ছবিকে আমি বাণিজ্যিক ভাবি। বাণিজ্যিক কিংবা বিকল্পধারার ছবি- এভাবে কখনোই ভাবিনি। আমার গল্প, চিত্রনাট্য ও চিন্তাভাবনার সঙ্গে মিলে কেউ যদি এগিয়ে আসে অবশ্যই কাজ করব। চাপিয়ে দেওয়া কিছু করতে চাই না।

- এমদাদুল হক মিলটন

মন্তব্য করুন