অনন্ত জলিল। চিত্রনায়ক ও প্রযোজক। আসছে ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র 'দিন :দ্য ডে'। এই ছবির মাধ্যমে প্রায় সাত বছর পর পর্দায় দেখা যাবে এই অভিনেতাকে। নতুন এই ছবি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি-



দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় পর সিনেমা হলে ফিরছেন। কেমন লাগছে...

দীর্ঘ বছর পর আবারও দর্শকের সামনে আসছি, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। যদিও আরও অনেক আগেই দর্শকের সামনে আসার কথা ছিল।

'দিন :দ্য ডে' ছবিটি নিয়ে কিছু বলুন?

দেখুন, এই সিনেমা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই কথা বলেছি। এখন দেখার পালা। তবে এটা আমি জোর দিয়েই বলতে পারি, শুধু তরুণরাই নয়, দেশের সব বয়সী মানুষ ছবিটি দেখবেন। কারণ, এই ছবিতে রয়েছে দারুণ এক গল্প; যা সব বয়সী দর্শকের কাছে ভালো লাগবে। এ ছাড়া ছবিটি নির্মাণ করেছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম। ফলে ছবিতে ইরানি ছবির ফ্লেভারও পাওয়া যাবে। আর আমাদের দেশের দর্শকদের ইরানি ছবির প্রতি টান অনেক আগে থেকেই ছিল এবং আছে।

ছবিটি কয়টি ভাষায় মুক্তি পাচ্ছে?

'দিন :দ্য ডে' ছবির মূল ভাষা বাংলা রেখে ফারসি, আরবি ও ইংরেজিতে ডাবিং করে একই সময়ে বাংলাদেশসহ ৮০টি দেশে মুক্তি দেওয়া হবে। আমি ও বর্ষা ছাড়া এতে আরও অভিনয় করেছেন ইরান-লেবাননের প্রথম সারির কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রীও।

ছবির দৃশ্যধারণের সময়কার কথা বলুন?

বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, তুরস্ক ও আফগানিস্তানে এর চিত্রায়ণ হয়েছে। মনে আছে, ইরানে আমরা যখন এর কাজ করছিলাম, তখন সেখানকার তাপমাত্রা ছিল ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এত গরমের মধ্যেও সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। এ ছাড়া ইরানের হরাতে নামক এক দুর্গম পাহাড় ও মরুভূমি এলাকায় শুটিং করার সময় উটের পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছিলাম। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আমাকে। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তেহরান থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ইরানের তৃতীয় বৃহত্তম নগর এসফাহনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ছবির পাশাপাশি আপনি 'নেত্রী :দ্য লিডার' নামে একটি ছবির কাজ শুরু করেছেন...

এ সিনেমার কাজ আমরা টানা শেষ করতে চেয়েছিলাম। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, সিলেট থেকে ছবির কাজ শুরু করব। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে সেটি হয়নি। এরপর ভারতে ছবিটির দৃশ্যধারণ শুরু করি। করোনার কারণে শুটিং বাতিল করতে হয়। এরপর তুরস্কে ছবিটির অনেকটাই দৃশ্যধারণ করা হয়। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকায় এর দ্বিতীয় লটের কাজ শুরু করব। এই ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন বর্ষা। তাকে একজন নেত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে। আর আমাকে দেখা যাবে তার বডিগার্ডের ভূমিকায়। এ ছবিটি নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও তুরস্কের যৌথ প্রযোজনায়।

শুনলাম, নরওয়ের 'দ্য লাস্ট হোপ' ছবিতে অভিনয় করছেন?

ঠিকই শুনেছেন। তুরস্কতে 'দিন :দ্য ডে' ও 'নেত্রী :দ্য লিডার' সিনেমার চিত্রায়ণ চলাকালে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নরওয়ের এই প্রযোজকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তখন তিনি আমাকে তার নতুন ছবি 'দ্য লাস্ট হোপ'-এ অভিনয়ের কথা বলেন। ছবির গল্পকার রেসিং নিয়ে। সে কারণেই এতে অভিনয়ে রাজি হয়েছি। আগামী বছরে এর দৃশ্যধারণ শুরু হবে।

মন্তব্য করুন