ইউসুফ হাসান অর্ক। অভিনেতা, সুরকার ও নির্দেশক। সম্প্রতি শুরু হয়েছে তার নির্দেশনা ও কবিয়াল প্রযোজিত নাটক 'সুখ'-এর মঞ্চায়ন। নতুন এই প্রযোজনা, বর্তমান ব্যস্ততা ও থিয়েটারের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-



যে ভাবনা থেকে 'সুখ' নাটকটির প্রযোজনা, তা নিয়ে জানতে চাই?

পৃথিবীতে এখন যে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, বস্তু অর্জনের মধ্য দিয়ে সুখ খোঁজার চেষ্টা এবং প্রাপ্তিতেই সুখ আছে ভেবে একে অপরের দূরত্ব তৈরি করে নেওয়া, সেটাই নাটকের মধ্য দিয়ে দেখানোর কথা ভেবেছি আমরা।

ইউরোপীয় রেনেসাঁর উপজাত হিসেবে যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের উত্থান তা কখনও কখনও ঋণাত্মক প্রভাব ফেলছে। যেজন্য 'আমরা' নয়, 'আমি', 'আমার' শব্দগুলোই বেশি চর্চিত হচ্ছে। আমরা তাই বিচ্ছিন্ন, একা হয়ে যাচ্ছি। এই নাটকের গল্পে আছে সেই একাকিত্বের পেছনের কারণ।

নির্দেশনার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রয়োগ অনুসরণ করেছেন কি?

কাহিনিতে একাকিত্বের পেছনে লুকিয়ে থাকা যে কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে অতিব্যঞ্জনা দিয়ে উচ্চকিত সুরে তা ফোকাস করার প্রয়াস ছিল। তাই মঞ্চে বাড়াবাড়ি রকমের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অঙ্কিত হয়েছে। মূল রচনার অন্তস্রোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে বয়ে যাওয়া অ্যাবসার্ড ধারণার প্রয়োগও ছিল। তাই নাটকটি সিরিজ কমেডি মনে হলেও আসলে এটি সিরিয়াসধর্মী নাটক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

নাটক প্রযোজনায় কবিয়ালকে যুক্ত করার কারণ?

সৃজনশীল প্রজন্ম নিয়ে একটি উদার সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কয়েকজন মিলে 'কবিয়াল ট্রাস্ট' গঠন করেছি। কবিয়াল থিয়েটার সেই কর্ম উদ্যোগের একটি শাখা। এটি একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। যে কেউ এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারেন। আরেকটি বিষয় হলো, এখানে সীমিত হলেও কাজের সম্মানী দেওয়া হয়। যাতে শিল্পচর্চার পথ কিছুটা হলেও মসৃণ হয়। শুধু নাটক নয়, কবিয়ালের উদ্যোগে শিক্ষা ও শিল্পচর্চায় লাইব্রেরি, আর্ট গ্যালারি নির্মাণসহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।

ক্ল্যাসিকের পাশাপাশি সমকালীন নাট্যকারদের রচনা নিয়ে কাজ করছেন আপনি। নির্দেশক হিসেবে নিজেকে দুই ধারায় বিভক্ত করার কারণ?

ক্ল্যাসিক পাণ্ডুলিপিতে যেমন সমকালীন হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; আবার সমকালীন যাদের মৌলিক রচনা নিয়ে কাজ করছি, তাদের সৃষ্টি যে ক্ল্যাসিক হয়ে উঠবে না- তা কে বলতে পারে। ক্ল্যাসিক কাহিনি কিংবা সমকালীন নাট্যকারদের ভাবনা থেকে সৃষ্টি- যেটাই হোক না কেন, নির্দেশক হিসেবে আমি সেই কাজটিই করতে চাই, যা মানুষের গভীরে নাড়া দেবে।

নির্দেশনার পাশাপাশি অভিনয় ও গান করেন। এ নিয়ে নতুন কিছু ভাবছেন?

নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন- সবই আসলে জ্ঞানর্চচার অংশ এবং শিল্প। রবিঠাকুর বলেছেন, কলাবিদ্যার ঈশ্বর একটাই। কবিগুরুর এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি বলেই গান ও অভিনয় নিয়ে সবসময় নতুন কিছু করার কথা ভাবি এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি।

দীর্ঘদিন পর নতুন করে নাটক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। কেমন মনে হচ্ছে থিয়েটার অঙ্গনের পরিবেশ?

অনেক নাটকেই হলভর্তি দর্শক চোখে পড়ছে। যা প্রমাণ করেছে, ভালো নাটকের কদর এতটুকু কমেনি। আসলে থিয়েটার হলো জীবন্ত মানুষের সঙ্গে সংযোগ ঘটানো। তাই শত বাধায়ও নাটক মঞ্চায়ন থেমে যায়নি।

মন্তব্য করুন