কুমার বিশ্বজিৎ। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রকাশ হতে যাচ্ছে তার গাওয়া গান 'মেঘদূত'। এই গান, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-


ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে প্রকাশ হচ্ছে 'মেঘদূত'। কেমন হলো এবারের গানটি?

গানটির কথা ও সুর অসাধারণ। যে জন্য গাইতে আগ্রহী হয়েছি। এটি লিখেছেন ও সুর করেছেন আহমেদ রাজীব। চট্টগ্রামের ছেলে। নিজেও শিল্পী। মিউজিক ভিডিও যৌথভাবে নির্মাণ করেছেন শামীম আল আমিন ও কামরুল হাসান ইমরান। গানটি রেকর্ড হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। করোনার কারণে মিউজিক ভিডিওর শুটিং করা সম্ভব হয়নি। ভালোবাসা দিবস সামনে রেখেই এর মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছি। আমার বিশ্বাস, গানটি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।

এবার বইয়ের মলাটে আপনার আত্মজীবনী প্রকাশ হচ্ছে...
'এবং বিশ্বজিৎ' নামে বইটির কাজ গত বছরের ৬ জুন থেকে শুরু হয়। সম্প্রতি পাণ্ডুলিপি হাতে পেয়েছি। আমার আত্মজীবনী অনেকেই লিখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জয়ের [জয় শাহরিয়ার] ওপর আস্থা ছিল বলেই তাকে লিখতে সম্মতি দিয়েছি। বইয়ের এক মলাটেই থাকছে জীবনের ডায়েরি। এতে আমার ছোটবেলা, শরণার্থী ক্যাম্পে গান গাওয়া, কৈশোর, বেড়ে ওঠা, গানের প্রতি ভালোবাসা, সংগীতজীবনের চার দশক উঠে আসবে। রয়েছে জীবন সংগ্রামের গল্প।

এক সময় সিনেমায় গান করেছি ৬০০ টাকায়। মাইকে গান গাইতে হতো। হোটেলে থাকার ভাড়া ছিল না। ম্যানেজারের সঙ্গে সখ্য গড়ে বারান্দায় ঘুমিয়েছি। সমসাময়িক অনেক শিল্পীই এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বেঁচে থাকতে জীবনের নানা অধ্যায় যদি বলে যেতে পারি, সেটা আমার জন্য পরম পাওয়া। এ বইয়ের মাধ্যমে জীবনের ব্যক্তিগত বিষয় নতুন প্রজন্ম জানবে। এটি একুশের বইমেলায় প্রকাশ হবে।

সিনেমায় কি এখন নিয়মিত প্লেব্যাক করছেন?
এর মধ্যে নজরুল ইসলামের পরিচালনায় 'চিরঞ্জীব মুজিব', এসএ হক অলিকের 'গলুই', অরুণ চৌধুরীর 'জ্বলে জ্বলে তারা'য় গান গেয়েছি। এই কাজগুলো পরপর হয়েছে। আবার যদি এমন হয়, অনেক দিন ভালো কাজের সুযোগ হয়নি, তাহলে প্লেব্যাকে একটা বিরতি দেখতে পাবেন। আমার কাছে যখন যে কাজ মানসম্পন্ন, নীরিক্ষাধর্মী কিংবা সময়োপযোগী মনে হয় সেটাই করি।

সংগীতাঙ্গনের এই সময় কেমন যাচ্ছে?
করোনার কারণে শুধু গানের ভুবন নয়, প্রতিটি অঙ্গনের মানুষকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। একদিন দু'দিন নয়, প্রায় দুই বছর ধরে মিউজিশিয়ানদের অবস্থা খারাপ। যারা প্রাণের তাগিদে মিউজিক করে, তাদের দিন যে কীভাবে কাটছে বলে বোঝানো কঠিন। করোনার প্রাদুর্ভাব একটু কমায় গান-বাজনা শুরু হয়েছিল। আবার ওমিক্রনের চোখ রাঙানিতে সবকিছু স্থবির হয়ে যাচ্ছে। যা অবস্থা দেখছি তাতে সবার ঘরোয়া আয়োজন ও স্টুডিও ওয়ার্কে আবার মনোযোগ দিতে হবে।

মন্তব্য করুন