হামিন আহমেদ। তারকা কণ্ঠশিল্পী। গত শুক্রবার টিএম রেকর্ডসের ব্যানারে প্রকাশ হয়েছে তার নতুন গান 'যেও না চলে'। এ গান ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হলো তার সঙ্গে...

কোন ভাবনা থেকে ১৬ বছর পর একক গান করেছেন?
কৌশিক হোসেন তাপসের সঙ্গে এক সময় গান বাংলাতে সময় কাটিয়েছি। গানটি আড্ডার ছলে গিটারে সুর তুলতে গিয়েই সৃষ্টি। এর পর গানটি পুরো রূপ পেয়েছে। তাপসের কথা ও সংগীতায়োজনে এ গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি সুরও বেঁধেছি। দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্রীরা এতে বাজিয়েছেন। এটি তৈরির প্রতিটি ধাপ তাপস এত সুন্দর করে করেছে, যা আমার জন্য খুবই আনন্দের ছিল। এভাবে গান তৈরির অভিজ্ঞতা আমার কাছে নতুন। সবকিছু মিলেই এ গানটি করেছি।

একক গানে এত বিরতি ছিল কেন?
আমি সংগীত জীবনে মাইলসের বাইরে কখনও খুব বেশি সময় দিইনি কোথাও। যে সময় পার করে এসেছি, তা মাইলসের কাজ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি মনে করেছি, ওই সময় অন্য কোনো কাজ করলে মাইলসের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতো। সদস্য সবাই যদি বিভিন্ন দিকে মনোযোগ দিতাম তাহলে ব্যান্ডটি এতদূর এগিয়ে যেতে পারত না। ব্যান্ডকে ফোকাসে রাখার জন্যই একক গান প্রকাশ থেকে বিরত ছিলাম।

বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের [বামবা] আগামীর পরিকল্পনা কী?
 বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে 'প্রিয় বাংলাদেশ' নামে একটি গান করেছি। গানটি উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করব। বামবার ৫০ জন সদস্য গানটি করেছে। একটি উন্মুক্ত কনসার্টের কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে আয়োজন করতে পারিনি। করোনার প্রকোপ কমলে দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে কনসার্টের আয়োজন করব।

শাফিন আহমেদ মাঝেমধ্যে মাইলস ছাড়ছেন। এতে দলের ওপর কতটা প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন?
একজনই [শাফিন আহমেদ] বারবার যাচ্ছে আর আসছে। আর কারও নাম পাবেন না। মাইলসে তার আট বছর সম্পৃক্ততাও ছিল না। সে বারবার সমস্যা সৃষ্টি করে মিডিয়াতে যা-তা বলে বেড়াচ্ছে। তার সব কার্যকলাপ হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। মাইলসের ভাবমূর্তি যদি ক্ষুণ্ণ হয়, এর দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। একজন না বাজাতে চাইতেই পারে। কিন্তু হৃদয়তা এ পর্যায়ে যাবে কেন? একই প্লেটে খেয়েছি, কিন্তু সেই প্লেটে যদি থুথু ফেলা হয়, তাহলে যা হয় তাই হচ্ছে। মাইলস কখনও ওয়ান ম্যান শো হবে না। তাকে ছাড়াই শো করছি। কোনো কিছু তো ব্যাহত হচ্ছে না। আমাদের কাজ ভালো গান উপহার দেওয়া। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।

ব্যান্ড সংগীতের এই সময়কে কীভাবে দেখছেন?
করোনার কারণে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির দুই বছর খারাপ গেছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই এই দুঃসময়ে ব্যান্ডের অনেক কার্যক্রম ছিল। ব্যান্ডের গান শোনার শ্রোতা সব সময়ই থাকবে। যে ব্যান্ড ভালো গান করবে, তাদেরই শ্রোতারা মনে রাখবে। ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য যেমন দর্শক আছে, ব্যান্ডের শোগুলোরও অনেক দর্শক-শ্রোতা আছে। কিন্তু বাংলা গানকে সেই উচ্চতায় কেউ ওঠায়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে, এই উচ্চতায় ওঠানোর প্রথম প্রয়াস নিয়েছে গান বাংলা চ্যানেল। এটি নতুন সময়ের জন্য খুবই প্রযোজ্য।

মন্তব্য করুন