বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

সমকাল ডেস্ক

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলেছে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে সরকার অনেক ক্ষেত্রেই হিংসাত্মক ও বেআইনি পদক্ষেপ নেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তদন্তে ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায়ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংস্থার এ বছরের ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। ৬৬৭ পাতার এ রিপোর্ট গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে
৯০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ নিয়ে রিপোর্টে বলা হয়, বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে রাজপথে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। বছরজুড়ে চলা সহিংসতায় দুইশ'র মতো লোক নিহত ও হাজার হাজার লোক আহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিলে সহিংসতা রোধ করা যেত। সরকার এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে; বরং সরকার ক্রমে অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে এবং বিরোধী পক্ষকে দমনে চরম ব্যবস্থা নেয়।
সংস্থার এশিয়ার পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশের জন্য বছরটি ছিল বিষাদময়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিক্ষোভকারী, নিরাপত্তাকর্মী এবং পথচারী প্রাণ হারিয়েছে। এই সরকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছিল; কিন্তু ধীরে ধীরে স্বেচ্ছাচারী ও অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে।
নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি বলেছে, বছরের প্রথম দিকে আন্দোলন-বিক্ষোভ হয় ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ এবং অন্যান্য অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে। প্রধান বিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সহিংসতা বেড়ে যায়। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মীদের সহিংসতা থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারি বাহিনীও বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে।
রিপোর্টে বলা হয়, যারাই সরকারের কাজকর্মের সমালোচনা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই সরকার অভিযোগ আনে। হেফাজতে ইসলামের সমর্থক এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা সরকারের হিংসাত্মক পদক্ষেপের শিকার হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের কর্মকর্তা আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ, নাস্তিক বলে কথিত ব্লগারদের গ্রেফতার এবং একজন সংবাদপত্র সম্পাদককে গ্রেফতারের কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতার কথা তুলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়, জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় কার্যকর করায় বছরের শেষ দিকে সহিংসতা বেড়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা অনেক মৃত্যুর জন্য দায়ী। তবে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীও অনেক সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, যার শিকার হয়েছে বিক্ষোভকারী ও নিরীহ পথচারীরা। এ ছাড়া সরকার তার সমালোচকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার ও বাংলাদেশ রাইফেলসের বিদ্রোহের বিচার নিয়ে সরকারের সমালোচনা রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচার না করেই অনেককে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসে ১১শ'র বেশি গার্মেন্ট শ্রমিক নিহত হওয়ার পর কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও সরকার এতে সফল হয়নি।