সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ

তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে

-ফাইল ছবি

সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে 'রাষ্ট্রদ্রোহমূলক' মন্তব্য করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারসহ জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ যদি এমন ছিনিমিনি খেলায় লিপ্ত হন, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। অন্যথায় দেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।
মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, 'সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ভারতীয় বাহিনী অংশ নিয়েছে'_ এমন সংবাদ প্রকাশ করে ইনকিলাব আবার ভুল স্বীকার করে সংশোধনী দিয়েছে, ক্ষমাও চেয়েছে। খালেদা জিয়া ইনকিলাবের এই ক্ষমা চাওয়ায় কর্ণপাত করেননি।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ইনকিলাব যেভাবে ক্ষমা চেয়েছে, ঠিক তেমনি খালেদা জিয়াকেও তার মিথ্যা ও ভুল বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সোমবারের সমাবেশে খালেদা জিয়া সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে কারা ছিল, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রকারান্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের এমন বক্তব্যসহ সমাবেশে দেওয়া অন্যান্য বক্তব্যের জবাব দিতেই গতকালের এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এ সময় খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে 'নির্লজ্জ মিথ্যাচার' দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়া কীভাবে বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে? কোনো প্রমাণ ছাড়াই আরেকটি স্বাধীন দেশের সৈন্য আসবে?
সৈয়দ আশরাফ বলেন, তিনি কি প্রতিবেশী দেশসহ বহির্দেশের সঙ্গে যুদ্ধ চান? আমরা কি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে হানাহানি করব? এতে কি আমাদের গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে, নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় হবে?
বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না মন্তব্য করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়া বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। রাষ্ট্রদূতদের কোনো ক্ষমতা নেই রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তন করার। কোনো মুরবি্ব দিয়েই এটি সম্ভব নয়। বিদেশিরা অনেক সময় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলেও আওয়ামী লীগ তা 'প্রশ্রয়' দেয় না। তিনি বলেন, সোমবারের সমাবেশে খালেদা জিয়া বিদেশিদের চাপে অত্যন্ত সুকৌশলে জামায়াতকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তিনি এমন ভাব দেখাতে চেয়েছেন, তার সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও হেফাজত নেই। আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, জামায়াতের চিহ্নিত নেতারা ছাড়া অস্ত্রসহ বিশালসংখ্যক শিবির ক্যাডার ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিল।
আলোচনার মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি খালেদা জিয়ার আহ্বান প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়া সংলাপ চাইলেও তার ছেলে তারেক রহমান বলছেন, এ সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নূহ-উল আলম লেনিন, মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. হাছান মাহমুদ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, একেএম এনামুল হক শামীম, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ।