আ'লীগের সিদ্ধান্ত

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই বহিষ্কার

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

শাহেদ চৌধুরী

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই বহিষ্কার_ এ সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মঙ্গলবার সমকালকে জানান, আওয়ামী লীগের কোনো নেতা উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। গত ১৮ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে সজাগ ও সতর্ক রয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। তারা উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে একক প্রার্থী বাছাই করবেন। তাদের সহযোগিতা করবেন স্থানীয় এমপিরা।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানান, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিএনপি সংসদ নির্বাচন বয়কট করলেও উপজেলা নির্বাচনে আসবে। তাই বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনী যুদ্ধের আগে একক প্রার্থী বাছাই করতে হবে।
দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও ইতিমধ্যে একক প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য দলের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশের পর খুব কম সময়ের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরের প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। সাতটি টিমে বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ সাংগঠনিক সফর কার্যক্রম গুছিয়ে আনবেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে।
তিনি অনুমোদন দিলেই সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ভূঁইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বীর বাহাদুর উশৈ সিং, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কমপক্ষে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী বাছাইয়ে উপজেলা সফরে বের হবেন।
একক প্রার্থী বাছাইয়ের নীতিমালা :উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করছে আওয়ামী লীগ। দলের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল সমকালকে জানান, তৃণমূল নেতা অর্থাৎ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে।
এ ক্ষেত্রে উপজেলায় যৌথ কিংবা বর্ধিত সভা ডেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, যৌথ কিংবা বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পাশাপাশি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভা শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।
এ নির্দেশনার কথা জানিয়ে আজ বুধবার জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সমকালকে জানান, একক প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা জানিয়ে নেতাদের কাছে আজ চিঠি পাঠানো হবে।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন অনেকটা হঠাৎ করেই আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ১০২ উপজেলার নির্বাচন ঘোষণা করায় কিছুটা বিপাকে পড়েছে সরকারি দল। তবে খুব দ্রুতই তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
এ ক্ষেত্রে প্রথমেই উপজেলা পর্যায়ে কর্মিসভা এবং বর্ধিত সভা করে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে হবে। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে হবে। এর সঙ্গে থাকতে হবে মন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপিদের ইতিবাচক ভূমিকা। এভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী অভিযান চালালে বিজয় আসবে।