গাজীপুরে গৃহবধূর ছয় টুকরো লাশ

স্ব্বামী গ্রেফতার

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৪      

গাজীপুর প্রতিনিধি

পারিবারিক কলহের জের ধরে এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে ব্যাগভর্তি করে রাখে স্বামী। গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি বাসা থেকে তিনটি ব্যাগে ভরা ওই লাশের টুকরো উদ্ধারের পর ঘাতক স্বামী রিয়াজুল করিম রঞ্জুকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নৃশংস হত্যার শিকার গৃহবধূ চায়না (২৭) নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মহাজন গ্রামের আজিজ মৃধার মেয়ে।
পুলিশ জানায়, একটি তিনতলা বাড়ির আশপাশে লাশ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে_ স্থানীয়দের কাছে এমন খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালানো হয়।
জয়দেবপুর থানার এসআই আকরাম হোসেন জানান, অভিযান চালিয়ে
চান্দনা চৌরাস্তার রওশন সড়কের জসীম উদ্দিনের বাড়ির তিনতলার একটি বাসা থেকে গৃহবধূ চায়নার (২৭) ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, শরীর ও পা আলাদা তিনটি ব্যাগে ভরা ছিল। চায়নাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তার স্বামী রিয়াজুল করিম রঞ্জু। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরার একটি গার্মেন্টের শ্রমিক রিয়াজুল রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বয়রাত গ্রামের কিয়াম উদ্দিনের ছেলে।
এসআই আকরাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল জানিয়েছেন তিনি বড়বাড়ী এলাকায় ভাড়া থাকতেন। রোববার রাতে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে রঞ্জু স্ত্রী চায়নাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় তাদের দুই শিশুকন্যা ঘুমিয়ে ছিল। পরে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্ত্রীর দেহ তিন টুকরো করে দেহ লাগেজের ভেতর, দুই পা বস্তার ভেতর ও মাথা বাজারের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। পরদিন সোমবার সে তার দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে ওই বাসা ছেড়ে জসীম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া ওঠে। সেখানে মালপত্র নিয়ে উঠার পর লাশের দুর্গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাতে দুর্গন্ধের খবর এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়।
পুলিশ জানায়, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।