নয়াপল্টনে ভাংচুর ও বোমাবাজির মামলা

বিএনপি জোটের ১৪৭ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্টন থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলায় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, জয়নাল আবদিন ফারুকসহ জোটের ১৪৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর দ্রুত বিচার আদালতের হাকিম তারেক মাইনুল ইসলাম ভুঁইয়া গতকাল সোমবার বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলো। এ মামলার এক আসামি ওমর ফারুক গত বছর মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আদালতে হাজির না থাকায় ৪৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন_ জসিমউদ্দিন, আবুল হোসেন, আবুল কালাম, মো. সোহেলসহ ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা। গতকাল সোমবার মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য ধার্য তারিখে আসামিদের এ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে তা নাকচ করে দেন আদালত।
গত বছর ১১ মার্চ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলের সমাবেশের শেষদিকে হঠাৎ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং সমাবেশ প হয়ে যায়। এর ঘণ্টাখানেক পর বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা থেকে জোটের ১৫৫ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে ভাংচুর, বোমাবাজি, ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনের এ মামলায় গত বছর ২৪ মার্চ বিএনপির ১৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সোহেল রানা, মো. শাকিল, নাঈম আহমেদ, এমএ সোবহান, মাহবুবুর রহমান ছানা
ও জোনায়েদ ওসমানকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
গতকাল এ মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, সালাউদ্দিন আহমেদ, মো. শাহজাহান, বিরোধীদলীয় সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাসহ ১০০ নেতাকর্মী আদালতে হাজির ছিলেন। সব আসামি জামিনে আছেন। অপর ৪৭ জন আদালতে হাজির না থাকায় তাদের পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। এ সময় বিচারকের অনুমতি সাপেক্ষে এ মামলার আসামি জয়নুল আবদিন ফারুক তার নিজের পক্ষে অব্যাহতির আবেদনে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছিল। যার কারণে আমাদের বহু নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমাদের নিজেদের ডাকা জনসভায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নেতাকর্মীদের হত্যার চেষ্টা করব_ তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিষয়টি হাস্যকর ও অবান্তর। সম্পূর্ণর্ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এ মামলার সূত্রপাত। তদন্ত কর্মকর্তা সরকারের প্রভাবে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। অন্য আসামিদের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মহসিন মিয়া, মোসলেহ উদ্দিন জসীম প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি ফজলে রাব্বী। শুনানি শেষে আদালত এ মামলায় অব্যাহতির আবেদন নাকচ করেন। আদালতে হাজির থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা ককটেল বিস্ফোরণ ও সহিংসতার মাধ্যমে জনমনে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ পড়ে শোনালে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচারপ্রার্থনা করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে গত বছর ১১ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে উলি্লখিত আসামিরাসহ আরও ৫০/৬০ জন হঠাৎ ইটপাটকেল, লোহার রড, শাবল, লাঠি, হকি স্টিক ইত্যাদি হাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তার ওপর, টপ কালেকশনের গলি ও নয়াপল্টন মসজিদ গলির সামনের রাস্তায় যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস ও যানবাহন ভাংচুর করে। তারা পরপর ১৮-২০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ও রাস্তার ওপর ৭টি স্থানে টায়ার, চট, কাগজ দিয়ে আগুন ধরিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। পুলিশ এতে বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে এবং কর্তব্যরত পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে তারা পুলিশের ওপর আরও দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়ে ৩য় তলায় দাপ্তরিক রুমের বাথরুম থেকে ২টি, কনফারেন্স রুমের বাথরুম থেকে ২টি, ৪র্থ তলায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির অফিসের পূর্ব কোণের বারান্দায় নির্মাণসামগ্রীর চিপায় রাখা অবস্থায় ৪টিসহ মোট ১০টি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করে।
ভাংচুরের মামলায় আমানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন :পাঁচ বছর আগে করা অপর একটি ভাংচুরের মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম হাসিবুল হক গতকাল সোমবার আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। এ সময় আমানসহ ১২ আসামি উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচারকের কাছে সুবিচার প্রার্থনা করেন।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আমান থাইল্যান্ড থেকে ফেরার সময় মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতারের জন্য বিমানবন্দরে যায় পুলিশ। এ সময় আমানের কর্মী-সমর্থকরা ওই এলাকায় গাড়ি ভাংচুর করে ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় আমান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক তহিদ আহমেদ। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১১ সালের ২০ আগস্ট ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা হলেন_ বিএনপি ও জোট নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফোরকান-ই-আলম, সাইফুদ্দিন আহমেদ, জামাল শরিফ হিরু, তাজুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন রাসেল, মনজুর হোসেন, এহসানুল হক, আজিজুল ইসলাম মুনির, আলাউদ্দিন মানিক, ইকবাল মোর্শেদ খান, কামাল আহমেদ, মনির হোসেন, তাইমুল ইসলাম, ইকবাল, মজিবর রহমান, মিঠু তালুকদার, মামুন, ওমর ফারুক, জুলফিকার আলী ভুট্টু, মামুন, দেলোয়ার হোসেন, রবিউল আউয়াল, জসিম উদ্দিন, কামরুজ্জামান ওরফে রিপন, লিটন, আবদুল মান্নান, শহিদুজ্জামান, আমির হোসেন জুয়েল, রেজাউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মো. জুয়েল, আল আমিন, ওমর ফারুক, মিজানুর রহমান, শাহীন মো. শাহান শাহ, জাকির হোসেন, আজগর আলী, শাহজাহান, মুকুল সরকার, মো. মাসুদ, খোরশেদ আলম, শাহজাহান পাঠান, শিহাব উদ্দিন, রবিউল, কামাল উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, সবুজ, নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, আলতাফ হোসেন, মইনুল ইসলাম, আরেফিন আহমেদ খান সাজু, মনিরুজ্জামান, নাসির আহমেদ খোকা, সোহেল, হাফেজ সাইফুল্লাহ, আবু সালেহ, মামুনুর রশিদ, ওয়াহিদুজ্জামান, আল আমিন, আবুল হোসেন, মাসুদ রানা রিয়াজ, আবুল কালাম, মিজান, বাচ্চুু, সিরাজুল ইসলাম মানিক, শাহীন, শামসুদ্দিন, কামরুল, এশাকুল ইসলাম লিটু, রুবেল মাহমুদ, মো. মিয়া হোসেন, মেহেদি হাসান লিটু, শাহাবুদ্দিন, লিটন, সালাউদ্দিন, সেন্টু শেখ, আবদুল কাদের, আশিক, শাহমান শাহাদাৎ, জহিরুল ইসলাম, আনোয়ার, তোজাম্মেল হক সোহাগ, কাজী রওনাকুল ইসলাম, শাহজাহান, আবদুল হালিম খান, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল কাদির জিলানী ভুঁইয়া, রুহুল আমিন, খোকন এরশাদ, জিয়াউল হক জিয়া, ইকবাল হোসেন গনি, বশিরুল আলম টিটু, আল আমিন, এ্যানি, সুমন আহমেদ রাজ, জুয়েল, আসাদুজ্জামান শিমুল, এম এ বারী, আবদুল্লাহ, মনির হোসেন, রাসেল, নাসির তালুকদার, বাবুল শিকদার, হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, কায়সার, মোশাররফ হোসাইন, ওয়াসিম আলম, জাহিদুল আলম মিলন, মাসুদ রানা, সোহেল, সাইফুল্লাহ, আবুল কালাম, মালেক, এম এ কাশেম মজুমদার, এম এ জহিরুল ইসলাম, রতন মিয়া, মোহাম্মদ আলী, কে এম সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট জেড মোর্তজা চৌধুরী, এম আর আলী ফাহিম, নজরুল ইসলাম, ফেরদৌস ও ইমরুল কায়েস, প্রফেসর আবু তাহের, সম্রাট, আলমাস, বিলাল হোসেন, রেজাউল করিম, ইলিয়াস, আলমগীর, তুষার, ফরহাদ, দাউদ চৌধুরী, আশরাফুল ইসলাম শুকুর, তানভীর হায়দার, শাহীন ও আবদুল্লাহ আল হাসান।