পাজেরোতে আসছে ইয়াবার চালান

শীর্ষ ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার ৪

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারে তৈরি ইয়াবা সীমান্তপথে এনে অনেকদিন ধরেই বিক্রি করে আসছিলেন আবদুল্লাহ জোবায়ের। কিন্তু কক্সবাজার সীমান্ত থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ইয়াবার চালান নিয়ে আসায় অনেক ঝুঁকি। খরচও বেশি। তাই ঢাকাতেই ইয়াবার কারখানা গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। এতে লাভ বেশি, ঝুঁকিও কম। এ জন্য মিয়ানমার থেকে ইয়াবা তৈরির যন্ত্রাংশও নিয়ে এসেছিলেন। অন্যান্য উপাদানও আনার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই রোববার রাতে জোবায়েরসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার পিস ইয়াবা, তৈরির সরঞ্জাম ও বহনে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল পাজেরো জিপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন_ আইয়ুব আলী, শামসুল আলম ও মোস্তাকিন
হোসেন সানি। গতকাল সোমবার তাদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, জোবায়েরের ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো ম-৫০১। তবে এটি কোনো নিবন্ধন নম্বর নয়। বরং নিবন্ধনের আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গ্যারেজ নম্বর হিসেবে এটি সরবরাহ করে। জোবায়ের ইয়াবা বিক্রির টাকায় গাড়িটি কেনেন। এ চক্রের কাছে একই ধরনের আরও কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি আছে বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা। এ গাড়িটি ব্যবহার করে ইয়াবার চালান ঢাকায় আনতেন তিনি। এটি রাখা হতো নিকেতনের ফ্ল্যাটের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে। জোবায়ের নিকেতনের ফ্ল্যাটে বসে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে বাইরের কেউ গাড়ির কাছাকাছি যাচ্ছেন কি-না ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ বাসায় ঢুকছে কি-না তা নজরদারি করতেন। ৫-৬ বছর ধরে তিনি ইয়াবা ব্যবসা করে আসছেন।
ডিবির উপকমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অনেকদিন ধরেই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী জোবায়েরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় চালান আসার খবর পাওয়া যায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান নেয় ডিবির একটি দল। পরে সন্দেহভাজন পাজেরো জিপ আটকে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় বিপুল ইয়াবার চালান ও তৈরির সরঞ্জাম। এ সময় জোবায়েরসহ অন্য তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মুরাদ নামে চক্রের আরেক সদস্য পালিয়ে যান।
জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জোবায়েরের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার সদরে। তিনি ভারতের দার্জিলিংয়ে এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। মাদকাসক্ত হলে পড়াশোনা ছেড়ে দেশে ফেরেন। চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়া এলাকায় জহির টাওয়ার নামে জুবায়েরের বাবা জহির আহমেদের একটি ভবন রয়েছে। দেশে ফেরার পরই তিনি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। প্রথমদিকে অল্প করে আনলেও পরে পরিমাণ বেড়ে যায়। সর্বশেষ তিনি প্রতি মাসে চার-পাঁচটি ইয়াবার চালান ঢাকায় আনতেন। প্রতি চালানে কমপক্ষে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা থাকত। প্রতি পিস ইয়াবা কক্সবাজার সীমান্তে তারা কেনেন ১৩০ টাকায় এবং ঢাকায় পাইকারি বিক্রি করেন ১৮০ টাকায়। তবে খুচরা ক্রেতা পর্যায়ে একটি ইয়াবা ট্যাবলেট মানভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। প্রচুর লাভ হওয়ায় অনেক অসাধু ব্যক্তিই ইয়াবা ব্যবসায় ঝুঁকেছেন। জোবায়ের এরই মধ্যে গুলশানের নিকেতনে দুটি ফ্ল্যাট ও একটি পাজেরো কিনেছেন। বনশ্রীতে একটি ফ্ল্যাট কিনে অথবা ভাড়া নিয়ে সেখানে কারখানা করার পরিকল্পনা ছিল তার।
জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর আরও বলেন, পাজেরো জিপের মতো দামি গাড়ি সাধারণত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাই ব্যবহার করেন। এ জন্য এই ধরনের গাড়িকে ততটা সন্দেহের চোখে দেখা হয় না। এ সুযোগে অপরাধী চক্র পাজেরোতে করে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছিল। এখন থেকে আমরা সব বিলাসবহুল গাড়িকেই নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিবির জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকায় কারখানা গড়ার উদ্যোগ নেওয়ার আগে চট্টগ্রামে তারা পরীক্ষামূলক ইয়াবা তৈরি করেছে। সেখানে সফল হওয়ার পর তারা ঢাকাতেই ইয়াবা উৎপাদনের পরিকল্পনা করে।