বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে 'দায়মুক্তি' আইনের মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

সমকাল প্রতিবেদক

দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যে কোনো কেনাকাটা করা যাবে। এ বিষয়ে কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না। এই 'দায়মুক্ত'সহ 'বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০'-এর মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০১৪'-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ আইনে বলা আছে, কেনাকাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না। এ আইনে বিদ্যুৎ আমদানি অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অথবা অন্য কোনো কার্যক্রম, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতের কাছে প্রশ্নও উপস্থাপন করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি 'দায়মুক্তি' আইন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা সাংবাদিকদের বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আইনটি খুবই কার্যকর হয়েছে। মন্ত্রিসভা এবার শুধু বিদ্যমান আইনের মেয়াদ বাড়িয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে স্বাভাবিক আইন-কানুন দিয়ে তা সম্ভব নয়। ক্রয় আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সময় সাপেক্ষ। এই বিশেষ বিধান ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব নয়।' তিনি বলেন, গত চার বছরে এ আইনের আওতায় ভাড়ায় আনা বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র, চলমান প্ল্যান্টগুলোর মেরামত
এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
২০১০ সালে দুই বছরের জন্য প্রথম এই আইন করা হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়। গতকাল এ আইন আরও চার বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুৎ কিনতে এ পর্যন্ত ২০টি চুক্তি করেছে। ১৫টি কুইক রেন্টাল ও পাঁচটি রেন্টাল বিদ্যুৎ কোম্পানির ২২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করে পিডিবি। এর মধ্যে ১৩ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর করে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার মেগাওয়াটের আরও ১৫টি আইপিপি (ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট) স্থাপনের চুক্তি করে পিডিবি।
জ্বালানি খাতে এ আইনের আওতায় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রের ১০টি উন্নয়ন কূপ খননের চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ৮টি চুক্তি করে। এর মধ্যে দুটি গ্যাস কম্প্রেসর এবং আশুগঞ্জ থেকে এলেঙ্গা, বাখরাবাদ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ এবং ভেড়ামারা থেকে খুলনা পর্যন্ত তিনটি গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপনের কাজ রয়েছে।
সর্বশেষ এ আইনের আওতায় চলতি বছর কক্সবাজারের মহেশখালীতে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক্সট্রা অয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে অনুস্বাক্ষর করেছে পেট্রোবাংলা।
এ ছাড়াও বৈঠকে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন ২০১৪-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স-১৯৮৩ পুনরুজ্জীবিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট ২০১০ সালে সামরিক শাসনামলের অন্যান্য আইনের সঙ্গে প্রণীত এ আইনটিও অবৈধ ঘোষণা করেন।