জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ

আরও ৯ ভিআইপির বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪

হকিকত জাহান হকি

ক্ষমতাসীন দলের আরও মন্ত্রী-এমপিসহ ৯ ভিআইপির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। দুদক সূত্র জানায়, এর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে শিগগির। এরই মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের তিন ভিআইপির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এই ৯ ভিআইপি হলেন_ ক্ষমতাসীন দলের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাজাহান মিয়া, বিএনপির সাবেক সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জামায়াতের সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পারোয়ার, ব্যবসায়ী রেজাবুদ্দৌলা, ঢাকা-১৪ আসনে ক্ষমতাসীন দলের এমপি আসলামুল হক, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হক ও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি এমএ জব্বার।
দুদকের কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সমকালকে বলেন, শিগগির কিছু অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা পড়বে। এ লক্ষ্যে অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেদনগুলো জমা হওয়ার পর সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা হলেন_ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক, বিএনপির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ব্যবসায়ী রেজাবুদ্দৌলা, আসলামুল হক এমপি, এনামুল হক এমপি ও সাবেক এমপি এমএ জব্বার। বাকি তিনজনের মধ্যে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাজাহান মিয়া, জামায়াতের সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পারোয়ারের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন দলের তিন ভিআইপির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় সম্পদের রহস্যজনক বৃদ্ধির তথ্য অনুসন্ধান করে মামলা করা হয় তাদের বিরুদ্ধে। রুহুল হক, আসলামুল হক ও এনামুল হকেরও হলফনামার সম্পদ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, অনুসন্ধান কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল আলম এরই মধ্যে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের সম্পদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছেন। প্রতিবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনামুল হক এমপি ও তার স্ত্রী তহুরা হককে আজ ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও জামায়াতের মিয়া গোলাম পারোয়ার খুলনা-৫ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদক জানায়, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিগত মহাজোট সরকারের সময়ে মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে নিয়োগ, বদলি, টেন্ডারসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক এ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ২০০৯-১০ অর্থবছরে আইলাদুর্গত এলাকায় গবাদিপশুর পুনর্বাসনের নামে বিনা টেন্ডারে চারকোটি টাকার গোখাদ্য ক্রয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ১৪টি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তুরাগ নদ সংলগ্ন তাফালিয়া এলাকায় নিজের সাততলা ভবন নির্মাণ ও গাজীপুরে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আশানুর বিশ্বাসের নামে জমি কেনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাজাহান মিয়া। তার এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দ শৈলেনের সম্পদ অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের তথ্য মিলেছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এরই মধ্যে শৈলেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।