ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৪      

সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মুলতবি বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ব্যর্থ বলেও অভিহিত করেন তিনি। নেতাদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা, আত্মকেন্দ্রিক বক্তব্য, পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উত্থাপনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া।
রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রাত সোয়া ৮টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টার এই মুলতবি বৈঠক হয়। এর আগে বুধবার রাতে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক মুলতবি রাখা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ চেয়ারপারসনকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করলে খালেদা জিয়া তাদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'তোমরা তো ব্যর্থ, তোমাদের
কথা কী শুনব?'
সূত্র জানায়, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহিদুল ইসলাম হিরু চেয়ারপারসনের কাছে অভিযোগ করেন, দীর্ঘ এক বছরেও তার দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেনি কেন্দ্র। এ সময় আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশিদের কাছে খালেদা জিয়া ক্ষুব্ধ কণ্ঠে এর কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, 'কী সমস্যা ছিল, কেন ওই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি ?' এ ছাড়া ছাত্রদল নেতাদের বেশিরভাগই আত্মকেন্দ্রিক বক্তব্য দেওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে ছাত্রদল নেতাদের কেউ কেউ বর্তমান কমিটির ব্যর্থতা, বিশৃঙ্খলার কথা বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বহুবার একই বিষয় তুলে ধরায় খালেদা জিয়া ক্ষুব্ধ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
চেয়ারপারসনের সামনে ছাত্রদল নেতাদের অনেকেই সংগঠনটিতে পকেট কমিটি করার জন্য বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সাবেক ছাত্রনেতাকে দায়ী করেন। ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে সুবিধাবাদীদের দিয়ে কমিটি করার অভিযোগ করেন ছাত্রদল নেতারা। তারা চেয়ারপারসনকে ভবিষ্যতে কমিটি করার সময় ওই দুই নেতার পরামর্শ না নেওয়ার অনুরোধ জানান।
খালেদা জিয়া ছাত্রদলের নেতাদের বলেছেন, বৈঠক আর মুলতবি রাখা হচ্ছে না। সময় পেলে তিনি সবাইকে ডেকে বাকি নেতাদের বক্তব্য শুনবেন। না হলে তিনি যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গেই তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন। বৈঠকে একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৯ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতিরা সময়ের অভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। এতে সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে খালেদা জিয়া সংগঠনটির সিনিয়র নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু জুনিয়রদের বক্তব্য শুনেছেন বলেই নেতাদের ধারণা। আন্দোলনের মাঠে ছাত্রদলের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে খালেদা জিয়া সংগঠনটির দায়িত্বশীল নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও উপস্থিত ছিলেন।