বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদন

রফতানিতে পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তি হবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তি হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুব কর্মশক্তি এবং বৈশ্বিক জনমিতির বিবেচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবেও রফতানি বাণিজ্যে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। শিক্ষার মান বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়নের সুবিধায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট যুব শ্রমশক্তির চার ভাগের একভাগই থাকবে দক্ষিণ এশিয়ার দখলে।
'রফতানি বাণিজ্যে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি হওয়ার পালা :প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নীতি' শীর্ষক এ প্রতিবেদন গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রতিবেদন দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, 'এ প্রতিবেদনকে আমি স্বাগত জানাই।' গত দেড় যুগে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ও রূপান্তরের কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিবেদনের প্রকাশনা এবং একই বিষয়ের ওপর আয়োজিত সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন করে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়েনে এ আয়োজনে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনতে নীতি উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের
রফতানিযোগ্য পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাকের উৎপাদন খরচ ১০ শতাংশ কমানো গেলে রফতানি বাড়বে অন্তত ২০ শতাংশ।
প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বাণিজ্যবিষয়ক লিড ইকোনমিস্ট ভিনসেন্ট পলমেইড। তিনি বলেন, গত দশকে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে গড়ে ১৩ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের দুর্বলতা হচ্ছে পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমেনি। মোট রফতানির ৮০ শতাংশই পোশাক। এসব পোশাকও আবার কম দরের। পণ্যে বৈচিত্র্য এবং মানে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর পাদুকা, হালকা প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক পণ্যে বড় সম্ভাবনার কথা বলা হয় এতে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রফতানিতে বড় শক্তি হিসেবে যুব শ্রমশক্তিকে বিবেচনা করা হয়েছে। মজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে পূর্ব এশিয়ার দেশ ছেড়ে ক্রেতাদের চোখ এখন বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। বছরে ২০ লাখ নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে। এ সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তবে বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
সেমিনার সঞ্চালনায় পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, অনেক কথা বলা হলেও রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আসেনি গত দুই দশকে। রফতানিতে পোশাকের অংশ আগামীতে আরও বাড়বে। রফতানি বাজার হিসেবে প্রচলিত বাজার এখনও ভরসা। নবগঠিত বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বাইডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতানুগতিক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পোশাকের মান এবং দরের প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন এ খাতের বড় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। তিনি বলেন, পোশাক পণ্য এবং শ্রমিকের মান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। টি শার্টের সঙ্গে এখন জ্যাকেট রফতানিও বেড়েছে। ৪০ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের খাত হিসেবে পোশাকের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনেক ঝুঁকি আছে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যের উলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস আর ওসমানী, এসিআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা।