সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা রক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল ঘূর্ণাবর্তের কারণে মাটি ও বালির বস্তা সরে যাওয়ায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই বাঁধে সপ্তমবারের মতো ধস নামে। শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভরা বর্ষা মৌসুমে সপ্তমবারের মতো ধস দেখা দিলেও তা শুরু হয় মে মাসের শুরুতেই। কিন্তু এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো মাথাব্যথা ছিল না। সে সময় স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা না নিয়ে জিওব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর দায়সারা চেষ্টা করে তারা। গতকাল সকালে ধসের খবর শুনে ছুটে আসেন পাউবোর টাস্কফোর্স প্রধান প্রকৌশলী কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, এফআরইআরএমআইটি প্রকল্পের পরিচালক
মো. আমিনুল ইসলাম এবং বাঁধ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবো টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ। দিনভর লোকজন দিয়ে তারা জিওব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় আগামী শুষ্ক মৌসুমে বাঁধটি সুরক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তারা।
দাতা সংস্থাসহ দেশীয় অর্থায়নে ফ্লাড অ্যান্ড রিভার ব্যাংক ইরৌশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এফআরইআরএমআইটি) নামক প্রকল্পের অধীনে সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও পাবনা জেলায় প্রায় ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ধরনের বেশ কয়েকটি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ চৌহালীতে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। কাজটি ২০১৫ সালে শুরু হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার বিশাল জনপথ যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষা করা।
চৌহালীতে সাত কিলোমিটার বাঁধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু বাকি এর রক্ষণাবেক্ষণ। পর পর সাতবার ধসের কারণে এ বাঁধ আদৌ সুরক্ষা বা কার্যকর হবে কি-না, তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়রা।
শুক্রবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বাঁধটির আজিমউদ্দির মোড় এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বাঁধ ধসের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চৌহালী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চৌহালী আলিয়া মাদ্রাসা, বিএম কলেজ, বালিকা বিদ্যালয়সহ বেশকিছু স্থাপনা।
টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধে ধস দেখা দিলেও বালির বস্তা নিক্ষেপ চলছে।
টাস্কফোর্সের প্রধান কাজী তোফায়েল হোসেন বাঁধ নির্মাণকাজে কোনো গাফলাতি বা ত্রুটি নেই এমন দাবি করে গতকাল সমকালকে বলেন, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধে এ ধরনের ধস দেখা দিলেও সুরক্ষার পর স্থায়ী হয়েছে। চৌহালীতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরও তিন বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পরে এটি আস্তে আস্তে টেকসই হয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন