মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য নিয়ে ঘটছে হত্যাকাণ্ড

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

ইন্দ্রজিৎ সরকার

রাজধানীতে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। বেশিরভাগ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ, কখনও আবার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনোখুনি। এসব ঘটনায় দুই মাসে অন্তত পাঁচজন খুন হয়েছেন। শুধু চকবাজার এলাকায় চার দিনের ব্যবধানে দু'জনকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তারা হলেন জাসদ নেতা মঞ্জুর হোসেন ও ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী আল-আমিন। পুলিশের দাবি, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও এ ধরনের ঘটনা খুব একটা ঘটে না।
চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় ইসলামবাগ ক্লাবঘাটসংলগ্ন বাগানবাড়ী এলাকায় মঞ্জুর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার কুতুব নামের এক যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মঞ্জুর। কিছুদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী একটি চক্রের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ওই চক্রে রয়েছে সালাহউদ্দিন, রুবেল, আলামিন, মুরগি সেলিমের ভাই রুবেল, পুতুল ওরফে কুতুব ও গোলাম মোহাম্মদ পিচ্চি। তারা মঞ্জুরকে হত্যা করতে পারে। অবশ্য মঞ্জুরের ভাই গোলজার মাতব্বরের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার ভাইকে হত্যা করা হয়।
মঞ্জুর হত্যার চার দিন পর ২ আগস্ট রাতে চকবাজারের শ্মশানঘাট
বাঁশপট্টি এলাকায় আল-আমিন নামের এক যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি মঞ্জুরের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাকেও হত্যা করা হয়। তবে চকবাজার থানার ওসি শামীম অর রশীদ তালুকদার বলেন, আধিপত্য বিস্তার-সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও মাদক ব্যবসার বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা তসির উদ্দিনকে ৯ আগস্ট রাতে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিশ ব্যবসা, গরুর হাট বসানো ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজীব গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এর জেরে রাজীবের সহযোগী জাকির ও ফারুক তাকে হত্যা করে। এর আগে ৭ জুলাই গভীর রাতে গেণ্ডারিয়ার ডিআইটি প্লট এলাকায় বাসার কাছেই সাহেদ নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয়। গেণ্ডারিয়ার ঘটনার মাসখানেক আগে কামরাঙ্গীরচরের বাদশা মিয়ার ঘাটের পাশে সরকারবাড়ি এলাকায় ছুরিকাঘাতে আহত হন আলী হোসেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঠাণ্ডু নামে স্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের ধারণা, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরেই ঘটে এ ঘটনা।
চার দিনের ব্যবধানে খুন ২ যুবক :মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিউমার্কেট এলাকায় খোকন মোল্লা নামের এক হকারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এর চার দিন আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নে মিন্টু শেখ নামের এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। মাদক ব্যবসার জেরে এই খুনোখুনি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, সম্প্রতি সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটি মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরেও ঘটেছে।