ভারতে 'ব্যক্তিগত গোপনীয়তা' মৌলিক অধিকার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

গৌতম লাহিড়ী, নয়াদিলি্ল

'ব্যক্তিগত গোপনীয়তা'কে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক রায়ে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জগদীশ সিং খেহরের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। বেঞ্চের সব সদস্যের সম্মতিক্রমে ঘোষিত এই রায়ের ফলে ভারত সরকারের বায়োমেট্রিক আধার কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) ব্যবস্থার প্রবর্তন বাধার মুখে পড়ল। খবর :এনডিটিভি, পিটিআই, টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিবিসি।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার কি-না_ এ নিয়ে ভারতে অনেক আগে থেকেই বাদানুবাদ চলে আসছিল। ১৯৫৪ সালে এমপি শর্মার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আট সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা
মৌলিক অধিকার নয় বলে মামলায় রায় দিয়েছিলেন। ১৯৬২ সালেও খরক সিংহ মামলায় একই রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের ছয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। এদিকে বিজেপি
নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকারের দাবিও ছিল একই রকম। তাদেরও অভিমত, সংবিধান গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি। তবে বৃহস্পতিবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালত যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করে বিতর্কের অবসান ঘটান।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের বৃহস্পতিবারের রায়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নে একই আদালতের আগের দুটি রায় বাতিল হয়ে যায়। এ দিনের বেঞ্চে অন্য বিচারপতিরা ছিলেন জে চেলমেশ্বর, এসএ বোবদে, আরকে আগরওয়াল, আরএফ নরিম্যান, এএম সাপ্রে, ডিওয়াই চন্দচুড়, এসকে কৌল ও এস আবদুল নাজির।
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এসেছে গোপনীয়তার অধিকারের পক্ষে। বিচারপতিরা একমত হয়েছেন_ সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় জীবন ধারণ ও স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। ফলে ওই ধারার সঙ্গে সহজাতভাবে জড়িত ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারও মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।