সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্প অনুমোদনে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক

সুন্দরবনের আশপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের অনুমোদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। ওই এলাকাজুড়ে কত শিল্প-কারখানা রয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে সে তালিকাও আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। পরিবেশ সচিব, শিল্প সচিব, ভূমি সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ তালিকা দিতে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট আবেদনটি
দাখিল করেন। চার মাস পর গতকাল এর শুনানি হয়। রিটকারীর পক্ষে আবেদনের ওপর শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তাকে সহায়তা করেন শাহীনুর আলম, এহতেশামুল করিম, তারিকুল ইসলাম খান প্রমুখ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
আদালতের রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, সুন্দরবনের আশপাশের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্প-কারখানার অনুমোদন কেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের লঙ্ঘন হবে না এবং নতুন শিল্প-কারখানা কেন অপসারণ করা হবে না_ পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ভূমি সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সুন্দরবনের আশপাশের জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ১২ বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পরে ব্যারিস্টার জাকির সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে_ পরিবেশ অধিদপ্তর সম্প্রতি সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায়, অর্থাৎ ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কমবেশি ১৫০টি ছোট-বড় শিল্প-কারখানা বা প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প করার অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে। রিট আবেদনে এসব শিল্প-কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। উভয় পক্ষের শুনানির পর আদালত এ রুল জারি করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, সরকার ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন এবং চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পরে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ এর ৫ ধারার (১) ও (৪) উপধারার ক্ষমতাবলে সংরক্ষিত এ এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ প্রজ্ঞাপন অনুসারে সুন্দরবনের এই ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। যদিও পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রায় ১৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প করার জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এসব শিল্প-কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদ ও পরিবেশ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।