ওয়ারীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' কিশোর নিহত

পুলিশের দাবি তালহা হত্যার সন্দেহভাজন

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' রাকিব হাওলাদার নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ১৯ বছর বয়সী রাকিব পেশাদার ছিনতাইকারী। সে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র খন্দকার আবু তালহা হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন। এ ছাড়া একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সে অভিযুক্ত ছিল। এদিকে নিহতের স্বজনরা বলছেন, রাকিবের বয়স মাত্র ১২ বছর। বুধবার তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। সে কিছুটা দুষ্টু হলেও কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। শিশুশিল্পী হিসেবে সে চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছে। রাকিবকে 'হত্যা'র অভিযোগে আজ শনিবার আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে তার পরিবার।

ওয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, রাকিবকে বাসা থেকে ধরে আনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বয়সের দাবিও ঠিক নয় বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, ডাকাত-ছিনতাইকারীদের একটি দল ওয়ারীর টয়েনবি সার্কুলার রোডের ফেনী হোমিও হলের সামনে অবস্থান করছে- এমন খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তারা গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তদের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও হাফহাতা গেঞ্জি। তখনও তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে তাকে ছোট রাকিব বলে শনাক্ত করা হয়। তার বাড়ি ওয়ারীর বনগ্রাম লেন এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকে জাকির হোসেন ও শাহেদ হোসেন সীমান্ত ওরফে ধলা নামে তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার এবং দুটি চাপাতি, দুটি ছোরা ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। তারা হলেন- এএসআই নুরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জুয়েল শিকদার।

পুলিশ আরও জানায়, ড্যাফোডিলের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র তালহা গত বছরের ৮ অক্টোবর সকালে ওয়ারীর বাসা থেকে রিকশায় যাত্রাবাড়ী যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছুরিকাঘাতে আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বেলাল হোসেন সবুজ ও আবদুর রহমান মিলন নামের দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তালহা হত্যাকাে রাকিবের জড়িত থাকার তথ্য জানায়।

এদিকে রাকিবের বাবা মহসীন হাওলাদার গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেন। নিজেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিচয় দিয়ে তিনি সমকালকে বলেন, ২০০৬ সালে রাকিবের জন্ম হয়। সে এখনও কোমলমতি শিশু। কিছুটা দুষ্ুদ্ব প্রকৃতির হলেও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। সে 'ভালো আমাকে বাসতেই হবে' নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করেছে। মহসীন হাওলাদার প্রযোজিত এ সিনেমাটি ২০১৫ সালে মুক্তি পায়। তার প্রযোজিত ও রাকিব অভিনীত 'এসো না প্রেম করি' নামে আরেকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

মহসীন জানান, প্রথম সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তখন তিনি তিনটি চায়ের দোকান দেন। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে পরে তিনি দোকানগুলো ভাড়া দিয়ে 'মদীনা ডিজিটাল সাইন' নামে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ ও সপ্তাহে ২৫০ টাকা চাঁদা আদায় করে পুলিশ। মঙ্গলবার তিনি টাকা না দেওয়ায় বুধবার পুলিশ তার ছেলেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাকিব নামে অন্য কেউ হয়ত হত্যা-ছিনতাইয়ে জড়িত। কিন্তু পুলিশ তার ছেলেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে।

রাকিবের মা রিতা বেগম অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে ওয়ারী থানার এসআই জ্যোতিষ চন্দ্র তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার তিনি খাবার নিয়ে থানায় গেলে তাকে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

স্বজনদের অভিযোগের জবাবে ওয়ারী থানার ওসি জানান, আবু তালহা হত্যাকাণ্ড ছাড়াও একাধিক হত্যা-ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত ছিল রাকিব। তালহাকে ছুরিকাঘাত করার দু'দিন পর ১০ অক্টোবর ছিনতাই করতে গিয়ে সে ধরা পড়ে। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। তিন মাস তাকে কারাগারে থাকতে হয়। সর্বশেষ ২ এপ্রিল জয়কালী মন্দির এলাকায় মোক্তার হোসেন নামে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সে।