রাতের আঁধারে সিএসডির ১১৫ টন চাল-গম পাচার

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সাহাদাত হোসেন পরশ

রাতের আঁধারে সিএসডির ১১৫ টন চাল-গম পাচার

আটক হুমায়ুন কবীর

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সিএসডি খাদ্যগুদাম থেকে গতকাল শনিবার রাতে ১১৫ টন চাল, গম ও আটা পাচার করা হয়। ৮টি ট্রাকে এসব পণ্য বাইরে বিক্রির পাঁয়তারা করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গোয়েন্দা তথ্যে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকবোঝাই এসব চাল, গম ও আটা জব্দ করেন। পরে মধ্যরাতে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিএসডি গুদামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গুদামের সব নথিপত্র তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করলে অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। গুদামের চাল, গম ও আটা রাতের আঁধারে বাইরে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সিএসডির ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর। রাতেই তাকে আটক করা হয়েছে। দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে সঠিক জবাব দিতে না পারলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সমকালকে জানান, দীর্ঘদিন র‌্যাবের গোয়েন্দারা সিএসডি গুদামের চাল, গম ও আটার অনিয়মের বিষয়ে নজর রাখছিলেন। এই গুদাম থেকে প্রতিদিন ওএমএসের চাল বণ্টন করা হয়। তবে ওএমএসের যে পরিমাণ চাল সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে বিক্রি করার কথা তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি একটি চক্র বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সরকারের বিরাট আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষও সব জায়গায় চাল, গম ও আটা কম দামে কিনতে পারছেন না।

ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, সিএসডি একটি কেপিআইভুক্ত এলাকা। কোনোভাবে সেখান থেকে রাতের আঁধারে খোলা ট্রাকে বিক্রির করার জন্য চাল, গম ও আটা বের হওয়ার কথা নয়। তারা বেআইনিভাবে সেটা করে আসছিল। চাল, গম ও আটার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে শনিবার সিএসডির ভেতরে মারামারির ঘটনাও ঘটে।

মধ্যরাতে সিএসডি গুদামে গিয়ে দেখা যায়, চাল ও গমবাহী জব্দ ট্রাক পাহারা দিচ্ছেন র‌্যাবের সদস্যরা। ভেতর থেকে কোনো কর্মীকে বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না। সব বিভাগের রেজিস্টার জব্দ করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছিল।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যেসব ট্রাকে চাল, গম ও আটা পাচার করা হচ্ছিল তার মধ্যে কয়েকটি ট্রাক নম্বরবিহীন। কেন তারা নম্বরহীন যানবাহন ব্যবহার করছিল তা জানার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া ভাসানটেকের বরিশাল ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছেও সরকারি গুদামের চাল ও গম বিক্রি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিএসডির ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর ঘটনাস্থলে সমকালকে বলেন, খোলা ট্রাকে করে ওএমএসের চাল রাতে বের করার নিয়ম নেই। কীভাবে তা বের হয়েছে তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সিএসডির গেপ শাখার ইনচার্জ ইউনুছ আলী মণ্ডল সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কীভাবে সরকারি এসব চাল, আটা ও গম রাতে বাইরে গেছে তা তার জানা নেই।