অভিমত

আলোচনার মাধ্যমেই ভালো কিছু আসুক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

এম হাফিজ উদ্দিন খান

সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার কথা সংবিধানে নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে বিধান  আগে ছিল তা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য কী হবে, কার্যপরিধি কী হবে তা নিয়ে আলোচনারও গুরুত্ব নেই। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান যে সরকার ক্ষমতাসীন তাদের অধীনে র্নিবাচন হবে, সংসদও থাকবে।

তার পরও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে চারদিকে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। যদি আলোচনার মাধ্যমে ভালো কিছু করা যায়, সেটা সবার জন্যই মঙ্গলজনক। কিন্তু এ নিয়ে কেবল প্রত্যাশাই করা যায়, দাবি করার কিছু নেই। কারণ নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার কতটুকু দায়িত্ব পালন করবে, কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে তাও বর্তমান সরকারই ঠিক করবে। আবার এ নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিছু স্থির করতে হলে সেটাও সরকারের ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করবে। অতএব সার্বিকভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়টি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ও দায়িত্ব নিয়ে কিছু কথা বলেছেন। তার এ কথা দৃশ্যত ইতিবাচক। তার কথা অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে সরকার যদি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে রুটিন দায়িত্ব পালন করে সেটা ভালো। অন্যদিকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তার এ বক্তব্যের প্রতি কতটা আস্থা রাখছে সেটাও দেখার বিষয়। কারণ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক দলই নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিও তুলেছে। সব মিলিয়ে ছড়িয়ে- ছিটিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে তা যদি অর্থবহ আলোচনায় রূপ নেয় এবং নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে সর্বসম্মত কার্যপরিধি বা পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে সেটাই হবে সবার জন্য মঙ্গলজনক।