বিশিষ্টজনের মত

সমঝোতা এখনও সম্ভব

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮

সমকাল প্রতিবেদক

তফসিল ঘোষণা হলেও এখনও সরকার ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশিষ্টজন। তারা মনে করেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে সমঝোতা হলে তফসিল পুনর্নির্ধারণ করাও সম্ভব। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন জাতিকে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন তারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদা গতকাল একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সমকালকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তারা এ কথা বলেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন বলেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৮ জানুয়ারি। এ কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় রয়েছে। এ বিবেচনায় বলা যায়, নির্বাচন কমিশনের এত তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ চলছিল এবং রাজনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশাও ছিল, সে কারণে নভেম্বরের শেষে তফসিল ঘোষণা করে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও কোনো সমস্যা হতো না। এখন তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণার কারণে নির্বাচন নিয়ে জনগণের উৎকণ্ঠা থেকেই যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ২৩ ডিসেম্বর যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তাদেরও সংসদে বসার জন্য ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। তাহলে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করলে কী সমস্যা হতো, সেটা বোধগম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সাংবিধানিক বিধিবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিলের শুরু থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো সময়টা সমঝোতা আর সমতল ক্ষেত্র তৈরি করে নির্বাচন কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবে- এই প্রত্যাশা করি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সংলাপকেন্দ্রিক একটু সুবাতাস বইতে শুরু করেছিল। নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করায় তা পুরোপুরি বন্ধ করে হয়ে গেল। তবে এতে আমি অবাক হইনি। ইতিমধ্যে নিজেকে বিতর্কিত করার জন্য যে ধরনের উপাদান জমা হয়েছে, তার সঙ্গে এটা নতুন সংযোজন মাত্র।

তিনি বলেন, এখন যদিও এটা আশা করা অনেকটা অলৌকিক বা অবাস্তব, তারপরও দেশবাসী চাইবে যে নির্বাচন কমিশন উপলব্ধি করুক, নির্বাচনের ফল কী হবে সেটা নির্ধারণ হবে জনগণের রায়ে। এটা নির্ধারণ করার জন্য যে পূর্বশর্ত, সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সবার জন্য, সেটা প্রস্তুত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। জনগণের রায়ে নির্বাচনের ফল নির্ধারিত হয়। সেটার বিপরীতে যে কোনো শক্তিকে প্রতিহত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কথাটা হলো আস্থাহীনতার সংকট ইতিমধ্যে ঘনীভূত হয়েছে। সেখানে কতখানি তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সেটা নিয়ে দ্বিধা, সংশয় থেকেই গেল।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে। সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ চলছিল। তবে তফসিল সত্ত্বেও সদিচ্ছা থাকলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এখনও সমঝোতা সম্ভব। সমঝোতা হলে গণতন্ত্রের স্বার্থে তফসিল পুনর্নির্ধারণেও সংবিধান কোনো বাধা হবে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক আগে থেকেই নানা বিতর্ক ছিল। তাড়াহুড়া করে তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন ঘিরেও বিতর্ক এড়াতে পারল না। এটাই জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের।