ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ হত্যা

ম্যাগাজিনে আসামিদের ছবি দেখে জ্ঞান হারালেন মা

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

চবি প্রতিনিধি

ম্যাগাজিনে আসামিদের ছবি দেখে জ্ঞান হারালেন মা

ছেলে হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে লুটিয়ে পড়েন ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের মা জাহেদা আমিন - সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রকাশিত ম্যাগাজিনে ছাপানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইরফান দিয়াজ হত্যা মামলার এক আসামির ছবিসহ শুভেচ্ছা বার্তা। অন্যদিকে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী কর্মরত আছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চমান সহকারী হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতিরও সদস্য তিনি। কর্মচারী সমিতির বার্ষিক ম্যাগাজিনে ছেলে হত্যা মামলার আসামির এমন ছবি মেনে নিতে পারেননি জাহেদা আমিন। প্রকাশিত ছবি দেখার পর তাই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তিনি। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ছেলে হত্যার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভাস্কর্য জয় বাংলার সামেনে পোস্টার হাতে অবস্থান ও গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে চবির বঙ্গবন্ধু চত্বরে অনশন করেন তিনি।

দিয়াজের বড় বোন অ্যাডভোকেট জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা সমকালকে বলেন, আসামি আলমগীর টিপুর ছবিসহ শুভেচ্ছা বার্তা ম্যাগাজিনে দেখে মা নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনা জানাজানি হলে দিয়াজের অনুসারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করি। চিকিৎসক তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন।

নিপা বলেন, আমার ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। তার হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ নগ্ন উল্লাস আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তারা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চবি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চবির দুই নম্বর গেট এলাকায় ভাড়া বাসার নিজ কক্ষ থেকে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথম ময়নাতদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলে মামলা দায়ের করেন দিয়াজের মা। আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়বার করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজকে খুন করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।