সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জামায়াত নিষিদ্ধে সরকারের দৃষ্টি আদালতের দিকে

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধে সরকারের দৃষ্টি আদালতের দিকে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আদালতে একটি মামলা রয়েছে। এই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত দলটিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকারের কিছু করার নেই। আশা করা যায়, শিগগির মামলার রায় হবে এবং জামায়াত নিষিদ্ধ হবে।

তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সম্পূূরক প্রশ্নের উত্তরে এসব মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জামায়াতের কোনো রাজনীতির নিবন্ধন নেই। তবে এটা ন্যক্কারজনক যে, তারা নিবন্ধিত না হয়েও জামায়াতের নামে ভোট করেছে।

বিএনপির সঙ্গে একযোগে জোট করে ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হয়েছিল। কিন্তু জনগণ তাদের ভোট দেয়নি; সম্পূূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রথম ৩০ মিনিট প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নজিবুল বশরের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অপরাধী, মানুষ খুন থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশে পলাতক আছে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আলোচনা চলছে। বিশ্বাস করি, আসামিদের ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করতে পারব।

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের ৬২ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল এ সেতুর পাইল ড্রাইভিং চলাকালে সয়েল কন্ডিশনের কারণে নতুন করে কিছু পাইল ডিজাইন করতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত কিছু সময় প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম-৩ আসনের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে দেশের আপামর জনসাধারণ আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। এ বিজয় খুবই প্রত্যাশিত ছিল। নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপে এমনই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষের নির্বাচনী কোনো প্রস্তুতি বা কৌশল ছিল বলে মনে হয়নি। তাদের পরাজয়ের পেছনে এক আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন, মনোয়ন বাণিজ্য, দুর্বল প্রার্থী মনোয়ন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- তা নিয়ে অনিশ্চয়তা, আজগুবি প্রতিশ্রুতি, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়াসহ বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

নাটোর-২ আসনের শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি রেকর্ডের জন্য রাজনীতি করি না। প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে উপভোগের কোনো বিষয় নয়; এটি একটি দায়িত্ব এবং অবশ্যই কঠিন দায়িত্ব। যখনই আপনারা এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তখনই আমি আরও বেশি করে দায় বোধ করেছি।'

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ করার মতো কোনো জায়গা কোটালীপাড়ায় নেই। এটা করতে গেলে অনেক কৃষিজমি নষ্ট হবে। দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা সরকার নিয়েছিল। কিন্তু চর জানাজাতের মাটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেখানকার মাটির বিমানবন্দর করার মতো শক্তি নেই। তবে, বিকল্প হিসেবে রাস্তার ব্যাপক উন্নয়ন করা হচ্ছে। দ্রুত সেখানে যাওয়া যাবে। পদ্মা সেতু হয়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া পৌঁছানো যাবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নিজের কোলে ঝোল টানার কাজ আমি করি না। সার্বিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। তবে এটা ঠিক; কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়াসহ দক্ষিণাঞ্চল সব সময় অবহেলিত ছিল।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচিত তথ্য যাচাইয়ের জন্য গত বছর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে আট হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৮৪ জনকে মিয়ানমারের অধিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাকি দুই হাজার ৪৩১ জনকে নিবন্ধনকৃত পরিবারের তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে মিয়ানমার জানিয়েছে। দুই দেশের সম্মতিক্রমে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে রাজি হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করা যায়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শিগগিরই রাখাইন রাজ্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে যথাসম্ভব দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেবে।