'শ্রমশিশুদের' কান্না শুনতে কি পান

মধ্যপ্রাচ্যে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সরকার ও দূতাবাস আইনি লড়াইয়ে যায় না বলেই ধর্ষকদের সাজা হয় না : সালমা আলী, মানবাধিকার আইনজীবী

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

রাজীব আহাম্মদ ও বকুল আহমেদ

কেএনএইচ আহছানিয়া দুস্থ নারী ও পরিত্যক্ত শিশুকেন্দ্র। গত ২৭ জানুয়ারি সেখানে এক কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছেন আফরোজা (ছদ্মনাম)। সৌদি আরব থেকে ধর্ষিত হয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। সেখানে দিনের পর দিন গৃহকর্তা ও তার তরুণ ছেলের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাকে দেশে ফেরত পাঠায় দূতাবাস।

আফরোজার নতুন শিশুকে কেউ স্বাগত জানায়নি। 'জন্মের অভ্যর্থনা এখানে গম্ভীর, নিরুৎসব, বিষণ্ণ'- ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথাগুলো বলেছিলেন জেলেপাড়ার ক্ষুধার্ত, দরিদ্র মানুষদের ঘরে আসা শিশুদের সম্পর্কে, জনশক্তি হয়ে বিদেশে গিয়ে ধর্ষিত নারীদের পিতৃপরিচয়হীন প্রতিটি শিশুর জন্মও একই রকম। কোনো উল্লাসধ্বনি শোনা যায় না তাদের আগমনে।

আইনজীবী সালমা আলী এদের সম্পর্কে সমকালকে বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি সেনাদের ধর্ষণে জন্ম হয়েছিল যুদ্ধশিশুদের, বিদেশে চাকরি করতে গিয়ে ধর্ষিত নারীদের সন্তানরা তাদের মতোই। এরা শ্রমশিশু। এসব শিশুর ধর্ষক পিতা যে দেশের নাগরিক, তাদের ওই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রয়েছে। দূতাবাসকে, সরকারকে এর জন্য লড়াই করতে হবে।'

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। আহত হলে সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু বিদেশের মাটিতে ধর্ষিত নারীরা কোনো প্রতিকার পান না। তাদের শ্রমে-ঘামে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুলেফেঁপে ওঠে। কিন্তু তারা নির্যাতিত হলে কেউ দায়িত্ব নেয় না। ধর্ষকদের বিচারে সরকার উদ্যোগী হয় না। ধর্ষণের ফলে পৃথিবীতে আসা নবজাতকের পাশে রাষ্ট্র, সমাজ কেউই থাকে না।

সমকালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জনশক্তি হিসেবে বিদেশে গিয়ে ধর্ষিত নারীদের নির্যাতনকারী, ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করে না কোনো দূতাবাস। দেশে পাঠিয়েই সব দায়িত্ব শেষ তাদের! গত জানুয়ারি মাসে এভাবে দেশে ফিরেছেন ১১২ নারী। তাদের চারজন নির্যাতনের ফলে এখন মানসিক ভারসাম্যহারা। ২০১৮ সালে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফেরা এক হাজার ২৩৪ নারী কর্মীর অনেকেই ধর্ষণের শিকার। সমকালের হিসাবে যাদের অন্তত ১৭ জন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাদের সাতজন ইতোমধ্যে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এই 'শ্রমশিশুদের' দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ।

সব শেষ আফরোজার : হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে আফরোজা (ছদ্মনাম) গত বছরের এপ্রিলে সৌদি আরব গিয়েছিলেন পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন নিয়ে। কোন রিক্রুটিং এজেন্সি তাকে পাঠিয়েছিল, তাও বলতে পারেন না নিরক্ষর এই নারী। আহছানিয়া দুস্থ নারী ও পরিত্যক্ত শিশুকেন্দ্রে আশ্রিতা আফরোজা জানালেন, নোয়াখালীর আরিফ তাকে বনানীতে একটি এজেন্সির কার্যালয়ে নিয়ে যায়। ওই এজেন্সি তাকে ২০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের চুক্তিতে সৌদি আরব পাঠায়।

আফরোজা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রথম সপ্তাহ সব ঠিকই ছিল। তারপর থেকে গৃহকর্তা ও তার ছেলে একদিন পরপর রাতে তার ঘরে যেত। ধর্ষণ করত। গৃহকর্ত্রীকে জানালে তাকে মারধর করত। অসুস্থ হয়ে পড়লে আফরোজাকে হাসপাতালে নিয়ে যান গৃহকর্ত্রী। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তিনি অন্তঃসত্ত্বা।

আফরোজা বলেন, এর পর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে। তাকে খেতে দেওয়া হতো না। একদিন ময়লা ফেলার নাম করে পালিয়ে সৌদি আরবের বাংলাদেশের দূতাবাসের সেফহোমে আশ্রয় নেন তিনি। দুই মাস সেখানে রাখার পর গত অক্টোবরে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয় দূতাবাস।

বাড়ি ফিরবেন কোন মুখে! তাই আফরোজা নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ি না গিয়ে আশ্রয় নেন আহছানিয়া দুস্থ নারী ও পরিত্যক্ত শিশুকেন্দ্রে। কেন্দ্রের সমাজকর্মী সিনথিয়া ইসলাম জানান, ৩১ অক্টোবর আফরোজাকে এ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ২৭ জানুয়ারি তার মেয়েসন্তান হয়েছে। ভর্তি হওয়ার পর নয় মাস পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে এই সংস্থা বিনামূল্যে সেবা দিয়ে থাকে।

ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিতে গিয়েছিলেন সাবরিনা : সাবরিনার (ছদ্মনাম) গল্পও অভিন্ন। কাতারে কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্তার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দেশে ফিরেছেন। আশ্রয় নিয়েছেন আহছানিয়া দুস্থ নারী ও পরিত্যক্ত শিশুকেন্দ্রে।

সাবরিনা কাতার গিয়েছিলেন গত বছরের ১০ এপ্রিল। জানালেন, যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানে তাকে দিনে একবেলা খাবার দেওয়া হতো। খাবার চাইলে মারধর করত গৃহকর্ত্রী ও তার ছেলেমেয়েরা। একদিন ঘর গোছানোর কথা বলে গৃহকর্তার তরুণ ছেলে হাম্মত কক্ষে ডেকে ধর্ষণ করে। বাধা দিলে বেধড়ক মারধর করে। সাবরিনা হাম্মতের মাকে বিষয়টি জানালেও লাভ হয়নি। একই বাড়িতে চট্টগ্রামের নাইম ওরফে সাজিদ নামে এক যুবক কাজ করত। দেশের মানুষের কাছে সহযোগিতা পাবেন, এ আশায় ধর্ষণের ঘটনা তাকে জানান সাবরিনা। এতে আরও বিপদ বাড়ে। নাইমও ফাঁকা বাড়িতে ধর্ষণ করে তাকে।

এক রাতে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে ধর্ষণের অভিযোগ জানান সাবরিনা। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠায়। ২৩ জুলাই দূতাবাস থেকে তাকে দেশে পাঠানো হয়। গ্রামের বাড়িতে ফেরার কয়েক দিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত অক্টোবরে জানতে পারেন, চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি।

পরিবারের কাছে ঠাঁই না পেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে যান সাবরিনা। স্থানীয় দুই ব্যক্তি উদ্ধার করে তাকে। অক্টোবরে ঢাকায় এসে একজন পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রকল্পের এক কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আহছানিয়া মিশনের কেন্দ্রে পাঠান তাকে। তারপর থেকে এই কেন্দ্রেই রয়েছেন।

সাবরিনা সমকালকে বলেন, ছোট থেকেই কষ্ট করছেন। বিদেশে গিয়েছিলেন কষ্ট ঘোচাতে। কিন্তু যা ঘটেছে, তা মনে হলে বাঁচতে ইচ্ছা করে না। অনাগত সন্তানকে নিয়ে কী করবেন, কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না। কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অসহায় নারী।

আহছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন সমকালকে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সেবা দেয়। তবে সন্তান প্রসবের পর তাদের চলে যেতে হয়। এসব শিশুকে কোনো নিঃসন্তান পরিবার নিতে চাইলে আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। শিশুর মা চাইলে তার কাছেই রাখা হয়।

'কার কাছে বিচার চাইব?' : সৌদি আরবে চাকরি করতে গিয়ে অন্তত পাঁচবার বিক্রি হয়েছেন পলি আক্তার (ছদ্মনাম)। সর্বশেষ তাকে বিক্রি করা হয় হাইলি শহরের আহাম্মেদ নামে এক ব্যক্তির কাছে। তার স্ত্রী শিক্ষকতা করেন। তিনি স্কুলে যাওয়ার পর পলিকে ধর্ষণ করত আহাম্মদ। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আহাম্মদের স্ত্রীকে তা জানান পলি। এরপর স্বামী-স্ত্রী দু'জনই মারধর করে তাকে।

পালিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন পলি। পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি তখন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতাল থেকে তাকে জেলে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। কারাগারেই তার ছেলের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের ছয় মাস পর ছাড়া পেয়ে দেশে ফেরেন তিনি।

পলির ছেলের বয়স এখন নয় মাস। গ্রামে বাবা-মার সঙ্গে থাকেন তারা। নিজেদের বসতভিটা নেই। অন্যের জমিতে টিনের ঘর তুলে থাকেন। তার বাবা অসুস্থ, কাজ করতে পারেন না। মা ও পলি অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। পলি সমকালকে বলেন, ক'দিন ধরে তার ছেলে অসুস্থ। বমি করছে। টাকা নেই। ডাক্তারের কাছে নিতে পারছেন না। ভাতই হয় না, ডাক্তার দেখাবেন কী করে। জীবনের ওপর বিতৃষ্ণ পলি বললেন, 'সব কিছুই হারিয়েছি। এখন মরে গেলেই বাঁচি। আল্লাহ কেন তুলে নেয় না!?'

জানেই না মন্ত্রণালয়! : বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কর্মীরা বিপদে পড়লে তাদের সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের। বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাসের দাবি, কোনো নারী ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দেশে ফিরেছেন, এমন তথ্য তার জানা নেই। তিনি সমকালকে বলেন, 'আপনাদের কাছেই প্রথম শুনলাম দেশের কোনো মেয়ে ধর্ষিত হয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ পেলে এখন থেকে ব্যবস্থা নেব।'

মন্ত্রণালয়ের এ বক্তব্যে বিস্মিত নারী শ্রমিককেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, তারা একাধিকবার বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ আশ্বাস দিয়েছেন, কোনো মেয়ে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হবে।

সুমাইয়া ইসলাম জানান, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন দু'জন নারীকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়েছেন, যারা ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তাদের সন্তানদের একজনকে দত্তক দেওয়া হয়েছে। ছেলেটি রয়েছে সুমাইয়া ইসলামের কাছে। এখন তার বয়স চার। সুমাইয়া ইসলাম ও তার স্বামীর পরিচয়ে বড় হচ্ছে এই শিশু। শিশুটির নাগরিকত্ব না থাকায় জন্মনিবন্ধন সনদে মা-বাবার পরিচয়ে সুমাইয়া ইসলাম ও তার স্বামীর নাম লেখা হয়েছে।

বাংলাদেশের মেয়ে ধর্ষণে বিচার নেই : সুমাইয়া ইসলাম বলেন, 'মেয়েরা বিদেশে কাজ করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়, অর্থনীতিতে অবদান রাখে। কিন্তু তারা যখন বিপন্ন হয়, কেউ তাদের পাশে থাকে না। আজ পর্যন্ত একজন বাংলাদেশি নারী ধর্ষণেরও বিচার হয়নি। এতে ধর্ষকদের সাহস বেড়েছে। তারা বাংলাদেশি মেয়েদের যৌনদাসী ছাড়া কিছুই মনে করে না।'

তবে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহর দাবি, বাংলাদেশের মেয়েরা মামলা করতে চায় না। এ কারণেই বিচার হয় না। দূতাবাস উদ্যোগী হয়ে ৩৩টি মামলা করেছে। সেসব মামলার অগ্রগতি বা কেউ সাজা পেয়েছে কি-না- এসব অবশ্য রাষ্ট্রদূত জানাতে পারেননি। তিনি সমকালকে বলেছেন, মেয়েরা নির্যাতিত হয়ে সেফহোমে আসার পর দ্রুত দেশে ফিরতে চায়। মামলার ঝামেলায় যেতে চায় না। এ কারণে দূতাবাস কিছু করতে পারে না।

নেই পরিচয়, নেই নাগরিকত্ব :মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী সমকালকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সরকার ও দূতাবাস আইনি লড়াইয়ে যায় না বলেই ধর্ষকদের সাজা হয় না। দূতাবাস উদ্যোগী হলে আইনি লড়াইয়ে আদালতের মাধ্যমে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব।

সালমা আলী বলেন, দূতাবাস ও সরকারকে এ জন্য লড়াই করতে হবে। নারী কর্মীদের শুধু রেমিট্যান্স আয়ের মেশিন হিসেবে নয়, মেয়ে হিসেবে দেখতে হবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। গৃহকর্তাকে জবাব দিতে হবে। সরকার যদি এই পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারে, তা হলে মেয়েদের বিদেশে পাঠানোর দরকার নেই। বিদেশের মাটিতে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া নারীকর্মীদের সন্তানদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ জানেন না, কিন্তু সন্তানকে ছাড়তে রাজি নন জুঁই : জর্ডানে ধর্ষিত হয়ে দেশে ফেরা মানিকগঞ্জের জুঁই (ছদ্মনাম) গত আগস্টে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার দরিদ্র বাবা-মা মেয়েকে নিজেদের কাছেই রেখেছেন। তার মেয়ের বয়স এখন ছয় মাস। পিতৃপরিচয় নেই, তাই প্রতিবেশীরা জুঁইয়ের মেয়েকে স্পর্শও করে না। কেউ কোনো সামাজিক সম্পর্কও রাখে না। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ শুরুতে সহায়তা দিলেও এখন কোনো খোঁজই রাখে না।

অনেকেই জুঁইয়ের সন্তানকে দত্তক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু রাজি নন জুঁই। সমকালকে তিনি বলেন, তার জীবনে যা হওয়ার হয়েছে। তার মেয়ের বাবা না থাক, মা তো আছে। মা হিসেবে তিনিই বড় করবেন মেয়েকে। এতে তার মেয়ে স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ পাবে। জুঁই বলেন, 'ভিক্ষা করে খাব। তবু মেয়ে দেব না।'

নারী শ্রমিককেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম সমকালকে বলেন, 'সন্তানকে বুকে আগলে রাখা মায়ের অধিকার। মায়ের কোলে থাকা সন্তানের অধিকার। এ অধিকার কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে না। জুঁইদের পাশে দাঁড়াতে হবে রাষ্ট্রকে, সরকারকে।