নিউজিল্যান্ডে খেলা হচ্ছে না সাকিবের

আঙুলে চোট

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কে জানত একসঙ্গে দু-দুটো দুঃসংবাদ তার জন্য অপেক্ষা করে আছে। একে তো বিপিএল ফাইনালে হার, তার ওপর ওই ম্যাচ খেলতে গিয়েই আঙুলে চোট! বিপিএলের টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার হাতেও তাই খুব বেশি খুশি হতে দেখা যায়নি সাকিব আল হাসানকে। গতকাল এসকিউ ফোর ফোর সিক্স- ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরগামী রাত ১০টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটটিতে বসতে পারেননি তিনি। মাশরাফি, তামিম, রুবেল ও সাইফউদ্দিনের সঙ্গে এই ফ্লাইটেই কাল সিঙ্গাপুর হয়ে ক্রাইস্টচার্চ যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই গতকাল সকালে দুঃসংবাদটি জানান বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। 'সাকিবের বাঁ হাতের অনামিকায় যে ধরনের চোট ধরা পড়েছে তাতে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি আঙুল নাড়াতে পারবেন না। তিন সপ্তাহ পর

তার রিহ্যাব শুরু হবে।' বিপিএলের ফাইনালে ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে চোট পান সাকিব। ম্যাচের পর স্ক্যান করিয়ে ধরা পড়ে সাকিবের বাঁ হাতের অনামিকায় চোট। এরপর গতকালই বিসিবির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানিয়ে দেওয়া হয়, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলা হচ্ছে না সাকিবের।

বুধবার নেপিয়ারে শুরু হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। বাকি দুটো ওয়ানডে হবে ১৬ ও ২০ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে ক্রাইস্টচার্চ ও ডুনেডিনে। বিসিবির প্রধান চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু ওয়ানডে সিরিজই নয়, টেস্ট সিরিজেও সাকিবের অংশগ্রহণ অনেকটা অনিশ্চিত। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম টেস্ট শুরু হবে হ্যামিলটনে। এরপর দ্বিতীয়টি ৮ মার্চ থেকে ওয়েলিংটনে। তৃতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৬ মার্চ থেকে ক্রাইস্টচার্চে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো ওই টেস্টে খেলার মতো অবস্থায় থাকতে পারেন সাকিব। কিন্তু এই মুহূর্তে টাইগারদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ। তাই চোট সারিয়ে নিউজিল্যান্ডে একটি টেস্ট খেলার জন্য সাকিবকে সেই সময় পাঠানো হবে কি-না সেটাও অনিশ্চিত। যার অর্থ, গোটা নিউজিল্যান্ড সফরই সাকিবকে ছাড়া খেলতে হতে পারে টাইগারদের। দু'বছর আগে এই নিউজিল্যান্ড সফরেই ওয়েলিংটন টেস্টে ২১৭ রান করেছিলেন সাকিব। তাই এবারের সফরে তার শূন্যতা অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে টাইগারদের। সাকিবের পরিবর্তে কাকে পাঠানো হবে নিউজিল্যান্ডে, তা গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি বিসিবি। এ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডে থাকা কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে যোগাযোগ করে শেষ পর্যন্ত ইমরুলকে নিউজিল্যান্ড পাঠানো হতে পারে বলে একটা গুঞ্জন আছে।

এবারের বিপিএলে পারফর্ম করে মুশফিক-তামিমরা যেখানে ভরপুর আত্মবিশ্বাস সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন সেখানে এই বিপিএলই কেড়ে নিল সাকিব ও তাসকিনের খেলার সম্ভবনাটুকু। অথচ বিপিএলের টুর্নামেন্টসেরা সাকিবের জন্য এই নিউজিল্যান্ড সফরটা সুখস্মৃতিতে ভরপুর হতেই পারত। এর আগে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়ে এই সফর থেকে ছিটকে যান তাসকিন। তারপর সর্বশেষ ইনজুরির কবলে সাকিব। ফাইনালের দিন মাত্র পাঁচ বল ব্যাটিং করেছিলেন সাকিব। তার মধ্যেই যা হওয়ার তা হয়ে যায়। একাদশ ওভারের পঞ্চম বলে থিসারা পেরেরার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে গ্লাভসে আঘাত লাগে। তখন সামান্য ব্যথা অনুভব করলেও ড্রেসিংরুমে ফিরে সাকিব বুঝতে পারেন চোটটি বেশ গুরুতর। আসলে গেল বছর থেকেই চোট আঘাত বেশ ভুগিয়ে চলেছে সাকিবকে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় ফাইনালের সময় আঙুলে চোট পান। এরপর দেশের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজটি খেলতে পারেননি। শ্রীলংকায় নিদাহাস ট্রফির শুরুতেই ছিলেন না তিনি। সেই চোট শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপেও ভুগিয়েছিল তাকে। হাতে সংক্রামক নিয়ে আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের ফাইনাল না খেলেই দেশে ফিরতে হয় তাকে। সব মিলিয়ে চোট আঘাতে জর্জরিত সাকিব এখন চাইছেন জুন- জুলাইয়ের বিশ্বকাপের আগে নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে।