অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে দেওয়া দশ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের সংশ্নিষ্ট শাখায় খালেদার আইনজীবীরা এ আপিল দায়ের করেন। হাইকোর্টে দেওয়া রায় স্থগিতের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের ১৭৭ পৃষ্ঠার রায়সহ প্রায় তিনশ' পৃষ্ঠার লিভ টু আপিল দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, আপিলে বলা হয়েছে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের শুনানির সুযোগ না দিয়ে হাইকোর্ট এক তরফাভাবে রায় দিয়েছেন; যা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। উচ্চ আদালতে অবকাশের পর আগামী মাসে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদ দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার জজ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আপিল করেন ও দুদক রিভিশন (সাজা বৃদ্ধির আবেদন) করে। একই বছরের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। এ ছাড়া ১০ বছরের দ থেকে খালাস চেয়ে মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের আপিল খারিজ করেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদক এ মামলা করে।

জামিন আবেদন : ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগের মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য ফের আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। গত ২০ জানুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একই আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী। পরদিন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে জামিন শুনানির আদেশ দেন আদালত। ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী এ মামলাটি দায়ের করেন।