বৈশ্বিক মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ছিল পক্ষপাতমূলক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন পক্ষপাতমূলক ছিল। বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক 'বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ' থাকার দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে দুর্নীতি, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, বাকস্বাধীনতায় বাধার অভিযোগ উঠে এসেছে। একই সঙ্গে এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শ্রম ও কর্মপরিবেশের বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রতিবেদনটি কংগ্রেসে উপস্থাপন করেন।

একই দিন এটি তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং শ্রমিকের অধিকার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দেশটির কংগ্রেসে উত্থাপন করে। এ প্রতিবেদনের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করে। কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি আমলে নেওয়া হয়। যেমন- কোনো দেশকে সহায়তা করা না করা, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বিবেচনা বা প্রত্যাখ্যান প্রভৃতি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিবেদনটি গুরুত্ব পায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বলা হয়েছে, হয়রানি, ভয়ভীতি, গ্রেফতার ও সহিংসতার কারণে বিরোধী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের স্বাধীনভাবে সভা-সমাবেশ ও প্রচারকাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পেরেছে বেসামরিক প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া হয়েছে ব্যাপক মাত্রার দায়মুক্তি। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও তাদের মাধ্যমে সংগঠিত হত্যাকাদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার খুব কম পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তৎপরতা বাড়ানোর ফল হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মপরিবেশের অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও 'কমপ্লায়েন্স' মেনে চলার ক্ষেত্রে পরিদর্শনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অপ্রতুল। যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় বিধি ভঙ্গের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে না। সরকার নূ্যনতম মজুরি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

মাইক পম্পেও প্রতিবেদনে বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। তিনি বিশেষভাবে চীন ও ইরানের নাম উল্লেখ করেন। উইঘুর নিপীড়ন প্রসঙ্গে বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনে অন্য যে কারও চেয়ে এগিয়ে চীন। ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে 'চরম খারাপ' বলে অভিহিত করেন তিনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চোখে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উঠে আসে প্রতিবেদনে।