দারুণ জয়ে সেমিতে

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সাখাওয়াত হোসেন জয় বিরাটনগর, নেপাল থেকে

দারুণ জয়ে সেমিতে

বৃহস্পতিবার ভুটানকে হারিয়ে যেন উড়ছিল সাবিনা-তহুরারা - সমকাল

সূর্যের প্রখরতা ছিল বেশি। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকেন সাবিনা খাতুনরা। রৌদ্রের তেজের মতো প্রথমার্ধে মারিয়া মান্দা-সানজিদাদের খেলায় ছিল না তেজোদীপ্ত ভাব। আকাশে সূর্য ডুবে গিয়ে বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে পড়ে ছায়া। স্বস্তির বাতাসে যেন দম ফিরে পান মেয়েরা। ভুটানের সঙ্গে হোঁচটের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মিসরাত জাহান মৌসুমী প্রাণ ফেরালেন বাংলাদেশ শিবিরে। তার গোলটি একপশলা বৃষ্টির মতোই স্বস্তি এনে দেয়। এরপর অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের চোখ ধাঁধানো গোল। এক ম্যাচ জিতেই নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। গতকাল গ্রুপ 'এ'তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ০-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে ভুটানের বিপক্ষে অপরাজেয়ই থাকলেন লাল-সবুজের মেয়েরা। ২০১০ সালে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফে ভুটানকে ৯-০ গোলে এবং ২০১২ সালে হারিয়েছিল ১-০ গোলে। আগামীকাল গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সাবিনাদের জয়ে হিমালয়ের দেশটিও চলে গেছে শেষ চারে।

স্টেডিয়ামের এক পাশের গ্যালারিতে আসা নেপালি সমর্থকরা 'ভুটান, ভুটান' বলে সারাক্ষণ আওয়াজ তুলেছেন। কিন্তু শেষ বিকেলে হেসেছেন বাংলাদেশের মেয়েরাই। হয়তো গোলের ব্যবধানটা বেশি হয়নি। পুরো ম্যাচে আঁখি খাতুন-সিরাত জাহান স্বপ্নারা বল দখলে এগিয়ে ছিলেন। মাঠের বাইরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হওয়া ভুটানের রক্ষণভাগের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ মিস করেন স্বপ্না-সাবিনারা। শিলিগুড়ি সাফে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার স্বপ্না একাই কয়েকটি গোল মিস করেছেন। ১২ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে আঁখি খাতুনের জোরালো শট বক্সের সামনে খুঁজে নেয় স্বপ্নাকে। তার সামনে তখন কেবল ছিলেন ভুটান গোলরক্ষক সানজিতা মংগের। কিন্তু আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল মারতে গিয়ে স্বপ্না পোস্টের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন। ২৪ মিনিটেও ভুটান গোলরক্ষক বরাবর বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন স্বপা। পাঁচ মিনিট পর মারিয়া মান্দার কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে শুধু পা ছোঁয়ালেই চলত; কিন্তু পারেননি গত সাফে পাঁচ গোল করা এ ফরোয়ার্ড। এদিন বাংলাদেশের মধ্যমাঠ ছিল অগোছালো। মনিকা চাকমা দুর্দান্ত খেললেও দলের অন্যতম সেরা তারকা মারিয়া মান্ডা ছিলেন নিষ্প্রভ। তবে বিরতির পর পার্থক্য গড়ে দেন মৌসুমী ও সাবিনা।

বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র দল অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। আর এই মেয়েদের ওপর সবারই আত্মবিশ্বাস ছিল। শেষ পর্যন্ত কোনো একজন ম্যাচের গল্পটা নতুন করে লিখবেন। যেমনটি লিখেছেন মিসরাত জাহান মৌসুমী। সাবিনা-স্বপ্নারা যখন গোল মিসের দলে, তখনই পাদদীপের আলোয় আসেন রংপুরের এ মেয়ে। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ শিবিরে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন তিনি। মনিকা চাকমার নিখুঁত কর্নারে ভুটান ডিফেন্ডার সোনম চোডেন হেড করার পর জটলার মধ্য থেকে জাল খুঁজে নেন মৌসুমী। গোলের পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ৬৮ মিনিটে সানজিদার বদলি হিসেবে তহুরা খাতুন নামলে ম্যাচে আরও গতি বাড়ে। সেই গতির ফল আসে ৮৫ মিনিটে। এবার বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনার একক নৈপুণ্য। বাঁ প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় দ্রুতগতিতে বল নিয়ে ঢুকে পড়া সাবিনার কোনাকুনি প্লেসিং শটে বল চলে যায় জালে। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে তৃতীয় গোলটি প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল বাংলাদেশ। শিউলি আজিমের ডিফেন্সচেরা পাসে দৌড়ে গিয়ে তহুরা খাতুনের নেওয়া ডান পায়ের প্লেসিং শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। একটু পর রেফারির শেষ বাঁশি বাজালে জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন সাবিনারা।