বিশেষ মন্তব্য

বর্ণবাদী উগ্রপন্থা বিশ্বে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন

সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী হামলা এটি। খুবই মর্মান্তিক এবং নিন্দনীয়। হামলাকারী 'রাইট উইং হোয়াইট এক্সট্রিমিস্ট মুভমেন্টে'র সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়েই এই মুভমেন্ট অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবেই দেখা গেছে এখানে-সেখানে। এর আগে হল্যান্ডে, ইংল্যান্ডে চরমপন্থি এই সাদা চামড়াদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। এবার নিউজিল্যান্ডে যেটা ঘটল, সেটা বড় প্রশ্ন নিয়ে এসেছে সামনে- এই 'রাইট উইং হোয়াইট এক্সট্রিমিস্ট মুভমেন্ট' কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং করছে?

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন হামলাকারী 'রাইট উইং হোয়াইট এক্সট্রিমিস্ট মুভমেন্টে'র একজন কর্মী এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। এখন এটা ভাববার বিষয় যে, এই হামলাকারী কীভাবে নিউজিল্যান্ডে গেল এবং এভাবে খুবই কম সময়ের ব্যবধানে দুটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনা করল। দুটি মসজিদের দূরত্বও বেশ। অর্থাৎ একজন হামলাকারী দুটি স্থানে একই দিনে অনেকটা নির্বিঘ্নেই হামলা চালিয়েছে। এটাই প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, হামলাকারী কি একা, নাকি তার পেছনে আরও কেউ আছে? কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী আছে কি?

একটা মসজিদে হামলা চালিয়ে বেশ কিছুটা দূরত্বে আরও একটি মসজিদে হামলা করল- এই সময়ে নিউজিল্যান্ড পুলিশের ভূমিকা কী ছিল? নিউজিল্যান্ড খুবই শান্তির দেশ। সম্ভবত সে দেশের সরকার ও প্রশাসন এ ধরনের ঘটনার কথা ভাবতেই পারেনি। যে কারণে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে নিবিড় তদারকিও ছিল না তাদের। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে প্রথমবার হামলার পর সে খবর কয়েক সেকেন্ডেই সরকারের সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছার কথা এবং দ্বিতীয় স্থানে হামলা চালানোর আগেই প্রতিরোধের নূ্যনতম ব্যবস্থা নেওয়া অসম্ভব নয়। এ কারণেই প্রথম স্থানে হামলার পরও নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কতটা তৎপর ছিল? কিংবা নির্লিপ্ত ছিল কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

হামলাকারী ৭৪ পৃষ্ঠার যে বক্তব্য দিয়েছে, সেখানে সে লিখেছে- কীভাবে, কার কার দ্বারা 'রাইট উইং হোয়াইট এক্সট্রিমিস্ট মুভমেন্টে' যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে সে। এ মুভমেন্টে যুক্ত হতে সে প্রথম অনুপ্রাণিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই ট্রাম্প হোয়াইট রেসিজমের তত্ত্ব প্রচার শুরু করেন। সেই তত্ত্ব এখন কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছে, বোঝা যাচ্ছে তা। এতদিন পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামি সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে প্রচার করেছে। সেই হুমকির পাশাপাশি 'রাইট উইং হোয়াইট এক্সট্রিমিস্ট মুভমেন্টে'র নামে বর্ণবাদী চরমপন্থার উত্থান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও বিশ্বের সামনে একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল।