খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

চেয়ারপারসনের মতকে প্রাধান্য দেবে বিএনপি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হবে কি-না- সে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। মতামত জানতে শিগগির তার সঙ্গে দেখা করবেন বিএনপি নেতারা। খালেদা জিয়া রাজি থাকলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হতে পারে।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। টানা ১৪ মাস তিনি কারাগারে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, প্যারোলে মুক্তির আবেদনের বিষয়ে খালেদা জিয়া শুরু থেকেই অনাগ্রহী। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও এ অবস্থানকে সমর্থন করেন। তাদের মূল্যায়ন ছিল, ভোটের আগে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেলে তার প্রতি জনগণের যে সহানুভূতি তা কমে যেতে পারে। তারা আশাবাদী ছিলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি সহজেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হবে। এরপর খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়াতেই মুক্ত করা সম্ভব হবে।

কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির বিপর্যয়ে এ সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির  সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এ বাস্তবতায় বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যগত কারণে প্যারোলে মুক্তির পক্ষে দলীয় নেতাদের একটি বড় অংশ।

গতকাল শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে সরকার বিবেচনা করবে। এ বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।

গত মাসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দলীয় সূত্রের খবর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে তারা খালেদা জিয়াকে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই গত ১ এপ্রিল তাকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সমকালকে বলেন, প্যারোলে মুক্তির আবেদনের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্ত লাগবে। এটি তার স্বাস্থ্যগত বিষয়। এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। তার মতামতের ওপর সবকিছু নির্ভর করবে। এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে এখনও আলোচনা হয়নি।

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মতামতেই সিদ্ধান্ত হবে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হবে কি-না।

বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও তার মুক্তির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। এর জন্য যে কোনো রাজনৈতিক ছাড় দিতেও প্রস্তুত রয়েছে দলটি। আইনি লড়াই ও রাজপথের কর্মসূচিতে তার মুক্তি সম্ভব নয়- এ বাস্তবতা থেকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে অনেক নেতা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।

বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিব সমকালকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক যে অবস্থা, তাতে তার উন্নত চিকিৎসার বিকল্প নেই। এর জন্য যে কোনো রাজনৈতিক ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে বিএনপি।