নুরসহ আরও তিন আসামি গ্রেফতার

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯     আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

ভালুকা (ময়মনসিংহ) ও সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টিম। এর মধ্যে অন্যতম আসামি শিবির নেতা নুর উদ্দিনকে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ ও নুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, আরেক আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় ফেনীর রামপুর এলাকা থেকে মামলার পাঁচ নম্বর আসামি জাবেদ হোসেনকে গ্রেফতার করে পিবিআই।

সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই টিম বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকার হবিরবাড়ীর সিডস্টোর আমতলী এলাকায় আকবর নামে একজনের বাসা থেকে নুরকে গ্রেফতার করে। আকবর জানান, তিনি ফুটপাতে পোশাক বিক্রি করেন। তার মামির বাড়ি সোনাগাজীতে নুরদের এলাকায়। সেই পরিচয়ের সূত্রে বৃহস্পতিবার রাতে খিলক্ষেত থেকে ভালুকা এসে এক রাতের জন্য আশ্রয় চান নুর। সে জন্য তাকে থাকতে দিয়েছেন বলে দাবি আকবরের। নুরকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর ছিদ্দিক।

নুসরাত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি নুর। নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে। মামলার বাদী নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের দাবি, নুরসহ বোরকাপরা চার যুবক সেদিন নুসরাতের শরীরে আগুন দিয়েছেন।

এ ছাড়া যে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছে ওই ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে ঘটনার আগের দিন শুক্রবার (৫ এপ্রিল) একটি ছবি তুলে ফেসবুকেও পোস্ট করেছেন নুর। ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন শাহাদাত হোসেন শামীম, নূর হোসেন হোনা মিয়া ও আরিফুল ইসলাম শাকিল। ওই দিন মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পরও কেন ওরা সেখানে গিয়েছেন এ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। নুরসহ আরও ৬-৭ জন ঘটনাস্থল রেকি করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

আরও এক আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি :নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আলমকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে মকসুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে সিরাজের পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়ে কাজীরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কাজী বুলবুল সোহাগকে বহিস্কার করা হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মানবাধিকার কমিশন :গতকাল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল। সংস্থার পরিচালক ফয়েজুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি নুসরাতের দুই সহপাঠীসহ বিভিন্নজনের জবানবন্দি গ্রহণ করে।

পরে ফয়েজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড অধ্যক্ষ সিরাজ। তার নির্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যৌন হয়রানির ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে নুসরাতের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাটিও এড়ানো যেত। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তার মধ্যে বোরকাপরা চারজন কীভাবে মাদ্রাসায় ঢুকেছেন তা তদন্ত করে বের করতে হবে। এই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করার পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের রিপোর্ট সরকারের উচ্চ মহলে পাঠানো হবে বলেও জানান ফয়েজুল হক।

এদিকে শুক্রবার সকালে অধ্যক্ষ সিরাজের ফাঁসি চেয়ে পৌরসভার জিরো পয়েন্টে সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেব রবিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মীর এমরানের নেতৃত্বে মানববন্ধন হয়েছে। জুমার নামাজের পর সোনাগাজীর সকল মসজিদে নুসরাতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। ।