ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার উষ্ণ অভ্যর্থনা

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার উষ্ণ অভ্যর্থনা

শুক্রবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং সস্ত্রীক রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ফোকাস বাংলা

চার দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে রয়্যাল ভুটান এয়ারলাইন্সের (ড্রুক এয়ার) একটি বিশেষ বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে লোটে শেরিংকে অভ্যর্থনা জানানোর পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়।

এ সময় ১৯ বার তোপধ্বনি করা হয়। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরিচয় করান। খবর বাসস, ইউএনবি ও বিডিনিউজের।

বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পর্ব শেষে একটি সুশোভিত মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। লোটে শেরিং গতকাল সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার এবং অটিজমবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা জাতির পিতার ইতিহাস সম্পর্কে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের

স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং স্মৃতিসৌধ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। লোটে শেরিংকে অভ্যর্থনা জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। গতকাল দুপুরে বারিধারায় ভুটান দূতাবাসে যান লোটে শেরিং। বিকেলে সবুজবাগে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার পরিদর্শন করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি নেওয়া লোটে শেরিং ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর। এবারের সফরে বাংলাদেশের বর্ষবরণের উৎসবেও শামিল হবেন তিনি। জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটিই বিদেশি কোনো সরকারপ্রধানের প্রথম বাংলাদেশ সফর।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লোটে শেরিংকে অভ্যর্থনা জানাবেন শেখ হাসিনা। দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। পরে তার সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন।

রোববার পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর। ভোরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুরের ধারার আয়োজনে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। সেদিন নিজের পুরনো বিদ্যাপীঠ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অষ্টাদশ ব্যাচের ছাত্র লোটে শেরিং এমবিবিএস পাস করার পর বাংলাদেশেই সার্জারিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। দেশে ফিরে চিকিৎসক পেশায় সরকারি চাকরিতে যোগ দেন লোটে শেরিং। ২০১৩ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার দল ডিএনটি চমক সৃষ্টি করে। সে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেকের দলকে হারিয়ে নভেম্বরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হন ডা. লোটে শেরিং। সফর শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ১৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন।