বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নোট পাচার

পুনর্বহালের চেষ্টা সেই সিবিএ নেতাকে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯

হাসান হিমালয়, খুলনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা কার্যালয় থেকে নতুন নোট পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মোল্লাকে পুনর্বহালের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে তার পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করে একাধিকবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের ছুটির আগের দিন অর্থাৎ গত ৩ জুন তার পুনর্বহালের আবেদনের বিষয়ে মতামত জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে খুলনা কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি হুমায়ুন কবীরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তিনি খুলনা কার্যালয়ের সিনিয়র কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে পুনর্বহালের চেষ্টার ঘটনায়  ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর বেনাপোল চেকপোস্টের শূন্যরেখা (নো ম্যান্স ল্যান্ড) থেকে ৩০ বান্ডল ২ টাকার নতুন নোট এবং ৪৮ বান্ডল ৫ টাকার নতুন নোট উদ্ধার করা হয়। একই বছরের ২৩ অক্টোবর ১০ বান্ডল ২ টাকার নোট উদ্ধার করে বিজিবি। এগুলো ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, ভারতে মাদক সেবনের কাজে ২ টাকা ও ৫ টাকার নতুন নোট ব্যবহূত হয়। এই টাকা বেশি দামে ভারতে বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিজিবি ও বেনাপোল পুলিশের তদন্তে নতুন নোটগুলো খুলনা থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সরাসরি নতুন নোট উদ্ধার ও পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালককে ঢাকায় ডেকে পাঠান এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ওই বছর থেকে ২ টাকা ও ৫ টাকার নতুন নোট ছাপানো বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক সূত্র জানায়, নতুন নোট পাচারের বিষয়টি তদন্ত করতে খুলনা কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (পরিদর্শন) অসীম কুমার মজুমদারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২ জানুয়ারি তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এর দুই মাস পরে শাস্তি পুনর্বিচেনার জন্য আবেদন করেন হুমায়ুন কবীর। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসন বিভাগে পাঠানো হয়। এরপর দুই দফায় তার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন তার বিষয়ে মতামত জানতে খুলনা কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এত বড় অপরাধের পরও তাকে পুনর্বহালের চেষ্টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কর্মচারীরা জানান, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের ওভারটাইমের টাকায় ভাগ বসানো এবং ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ আদায়ের অসংখ্য অভিযোগ ছিল। এর আগে কেয়ারটেকার থাকাকালে ব্যাংকের কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে সেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার ছয় মাসের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান সিবিএ সাধারণ সম্পাদক শেখ মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, হুমায়ুন কবীরের জন্য সিবিএ নেতাসহ সব কর্মচারীর মাথা নিচু হয়ে গিয়েছিল। তাকে অবসরে পাঠানোয় কিছুটা হলেও সবাই স্বস্তি পায়। এখন আবার পুনর্বহালের চেষ্টায় সবাই অসন্তুষ্ট। তিনি বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর সেই ব্যক্তি আবার নির্দোষ প্রমাণিত হয় কীভাবে? মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন ছাড়া এটা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা। চিঠির বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা।

সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মোল্লা সমকালকে বলেন, আমি শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছি। সেই আবেদন গ্রহণ করে দু'বার আমার শুনানি হয়েছে। ঈদের আগেই ফয়সালা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হয়নি। খুব দ্রুত বিষয়টি ফয়সালা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে অবসরে পাঠানো হয়। আমি নির্দোষ।