ব্যর্থতার সব দায় নিজের কাঁধে নিলেন মাশরাফি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যর্থতার সব দায় নিজের কাঁধে নিলেন মাশরাফি

রোববার বিকেলে দেশে ফিরতেই বিমানবন্দরে অধিনায়ক মাশরাফিকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা- সমকাল

সামর্থ্যের পুরোটা দেখাতে না পারা, গত কয়েক বছরের সাফল্যের ধারা বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ধরে রাখতে না পারা এবং সুবাদে বিশ্বকাপে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে না পারার জন্য দায়ী করা যায় অনেক কিছুকেই। নখদন্তহীন বোলিং, নতুন বলে উইকেট নেওয়ার সংগ্রাম, একগুচ্ছ মিস ফিল্ডিং আর সুবাদে প্রতিপক্ষের সেরা ব্যাটসম্যানদের জীবন দেওয়া- বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ করতে বসলে সবার আগে সামনে আসবে এই কয়েকটি ব্যাপার। তবে সবকিছুকে একপাশে সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পুরো দায়টাই নিজের কাঁধে নিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। গতকাল বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় অধিনায়ক হিসেবে তারই।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে গত চার বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের নতুন উচ্চতায় তুলেছে বাংলাদেশ দল, সেখানে অধিনায়ক মাশরাফির ভূমিকাও সর্বজনবিদিত। শুধু  অধিনায়ক হিসেবেই নয়, এই চার বছরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্বটাও তিনি দিয়েছেন দারুণভাবে। সেসব সাফল্যই স্বপ্ন দেখিয়েছিল এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার। রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে সেরা চারে খেলতে পারে, সেই বিশ্বাস ক্রিকেটারদের মধ্যে যেমন ছিল, তেমনি ছিল সমর্থকদের মধ্যেও। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দারুণভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করা দল যেন ছিল নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ কাটানোর পথে। কিন্তু এরপরই হোঁচট। পরের সাতটি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ হারিয়েছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয়ের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। কিন্তু পাকিস্তানকে হারানোর সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি মাশরাফি বাহিনী। নিজেদের সেরা সময়ে থেকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে গিয়ে তাই এবার ও প্রাপ্তি ২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপের মতো তিনটি জয়।

দলের এই ব্যর্থতায় নিজের দায়টা মাথা পেতেই নিলেন দলনেতা মাশরাফি। বললেন, 'দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো না খেললে সেটার দায়ভার ও সকল সমালোচনা আমাকেই নিতে হবে অধিনায়ক হিসেবে। এটা খুবই স্বাভাবিক, আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও ব্যাপারটা একই হতো। পুরো দায়ভার নিচ্ছি আমি। সমালোচনা হচ্ছে বা হবে। এটা সারাবিশ্বে বা সারাদেশে যে কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টের পর হয়, বিশেষ করে বিশ্বকাপের পর হওয়া খুব স্বাভাবিক।'

পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা জিততে পারলে দশ দলের বিশ্বকাপ পাঁচে থেকে শেষ করতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ম্যাচে ৯৪ রানের হারে, আর নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে যাওয়ায় বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত নেমে যেতে হয়েছে অষ্টম স্থানে। এমন এক পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই হতাশ দল। তবে একই সঙ্গে মাশরাফি মনে করেন, কিছু জিনিস পক্ষে এলে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফল অন্যরকমও হতে পারত। বললেন, সেমিফাইনালের সমীকরণ থেকে যেদিন ছিটকে পড়েছে দল, সেদিনই বিশ্বকাপ ব্যর্থ হয়ে গেছে তাদের জন্য, 'কিছু জিনিস আমাদের পক্ষে গেলে দল হয়তো অন্যরকম জায়গায় থাকতে পারত। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের কাছে পাঁচে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তার মানে আমরা শেষ ম্যাচ জিততে

পারলে পাঁচে থাকতাম। কিন্তু দেখেন, আপনাদের বা সাধারণ মানুষ বা সবার আশা ছিল চারের মধ্যে থাকা। চারে না থাকতে পারলে শেষ ম্যাচ জিতলে আমরা পাঁচে থাকতাম। সেটা হয়তোবা আলাদা জিনিস হতো, আটে থাকার চেয়ে ভালো হতো। আবার এটাও ঠিক, আমরা যেদিন চার নম্বরের হিসাব থেকে ছিটকে গেছি, এই বিশ্বকাপের অর্থ সেখানেই শেষ।'

সাকিব-মুশফিক ছাড়া এবারের বিশ্বকাপে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি কেউই। তরুণদের মধ্যে অবশ্য সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মুস্তাফিজুর রহমান ভালো করেছেন। মাশরাফির আশা, এই তরুণরা সামনে বড় আসরে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন দলের জন্য, 'তরুণদের সব সময় একতরফা দোষ দেওয়া হয়। আজকের সিনিয়ররা একসময় তরুণ ছিল, তখন তারা এতটা ধারাবাহিক ছিল না। আজকের তরুণরা যতটা ধারাবাহিক খেলছে, এত বেশি চাপের মধ্যে ক্রিকেট খেলছে, যেটা আমরা যখন তরুণ ছিলাম আমাদের নিতে হয়নি। তাই, তরুণদের একতরফা দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারাও অনেক চেষ্টা করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চ অনেক বড়, সেখানে পারফর্ম করা সহজ না।'