ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা শর্তসাপেক্ষে বহাল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার (স্টাটাসকো) আদেশ শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অর্থ বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।

শর্ত হচ্ছে, কোনো ব্যবসায়ী এই সুবিধা নিলে দুই মাসের মধ্যে তিনি আর অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন না। ফলে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ  বাংলাদেশ ব্যাংক ওই প্রজ্ঞাপনে দিয়েছিল, তা আপাতত কার্যকর থাকছে। এতে করে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আদেশ দেওয়ার সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আপত্তি তোলেন। এ সময় আপিল বিভাগ বলেন, দুই মাসে আর কী হবে। এ সময় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আপনি কি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন যে এই সুযোগটা দেওয়ার পরে বেসিক ব্যাংক, ফার্মার্স ব্যাংকের মতো আরেকটা ব্যাংক ধসে পড়বে না? সেটা তো পারবেন না। বার বার খেলাপিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় পরও টাকা আদায় না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ আদালত।

ব্যাংক পরিচালনায় 'সৎ লোকের' নিয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে একজন বিচারপতি বলেন,  সামান্য ঋণের জন্য গ্রামের কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। বড় বড় ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? বিশেষ শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। সরকার তো দেশ চালাচ্ছে, কিন্তু দেশটা তো জনগণের।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি আরও বলেন, ছোট ছোট ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে সবসময় সঠিকভাবে মামলা চলে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা হয়? আর যেন কোনো বেসিক ব্যাংক, ফার্মার্স ব্যাংক তৈরি না হয়, আমরা এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ঋণের টাকা দিয়ে বড় বড় ভবন তৈরি করা হলেও কেউ গাড়ির পার্কিং বানান না। ঋণখেলাপিদের ছাড় দেওয়ার পরও কেন টাকা আদায় হয় না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল অর্থ বিভাগের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, এটা পলিসি মেটার, শিল্পখাতের সঙ্গে জড়িত। জাতীয় স্বার্থে সরকার এই সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে রিটকারীপক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ঋণখেলাপিদের কাছে ব্যাংকের টাকা আছে। এখন তারা (ঋণখেলাপিরা) ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিলে সরকারের কাছে টাকা আসবে, কিন্তু ব্যাংকের টাকা তারা (নতুন ঋণ) নিতে পারবে না। এর মধ্য দিয়ে আমরা আশা করছি, জনগণের রক্ষিত টাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ রিটটি বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি হবে।

ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন গত ২১ মে স্থগিত করেন হাইকোর্ট। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশের ওপর ২ জুলাই স্থিতাবস্থা জারি করেন চেম্বার আদালত।