পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে সবকিছু করব

অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি

শেয়ারবাজারের চলমান দুরবস্থায় বিনিয়োগকারীরা যখন রাস্তায় বিক্ষোভ করছে, তখন আশার বাণী শোনালেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার। এবারের বাজেটে নানা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে আগামীতে যা কিছু করা দরকার, সরকারের তরফ থেকে তা করা হবে।

গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পাসের পর দুই সপ্তাহ দেশের বাইরে ছিলেন অর্থমন্ত্রী। পুঁজিবাজার প্রসঙ্গ ছাড়াও অর্থপাচার, বাজেট বাস্তবায়নসহ অর্থনীতির অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং গত ৩০ জুন বাজেট পাসের পর থেকে দেশের শেয়ারবাজার ক্রমশ পতনের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। শেয়ারবাজারে লাভ-লোকসান আছে- এ কথা উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন, এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পুঁজিবাজারে সরকারের শেয়ার খুব কম রয়েছে। ফলে এখান থেকে সরকারের শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এখানে বিনিয়োগ করবেন তারা শুধু লাভবান হবেন- এটা জোর দিয়ে বলা যায় না। লাভও হতে পারে আবার লোকসানও হতে পারে। এমন মানসিকতা নিয়েই বিনিয়োগ করতে হবে। প্রত্যেক দেশেই পুঁজিবাজারে শেয়ারের দামে ওঠানামা করে। ক'দিন আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটা সমস্যার কারণে ৪ থেকে ৫ শতাংশ ট্রেড কমে গেছে। এসব বিষয় অনেক সময় শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলে। তবে সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে আসছে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। ভারতে পুঁজিবাজারের ইনডেক্স চলে এসেছিল ১৮ হাজার থেকে সাত হাজারে। সেখানে কমেছে আবার বেড়েছে। আমাদের এখানেও বেড়েছে আবার কমেছে। আমাদের পুঁজিবাজারে এখন খুব বেশি ওঠানামা নেই। স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি খুব শক্তিশালী। এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তাহলে অর্থনীতির প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে না কেন? পুঁজিবাজারে এর প্রভাব আসা উচিত। পুঁজিবাজারে শক্তিশালী বা বড় বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থাকা দরকার। তবে আমাদের পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সংখ্যাই বেশি।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়ে। আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা শুধু লাভ করতে চান। ট্রেড করে ছোট্ট লাভ করে বেরিয়ে যেতে চায়। এটা কিন্তু পুঁজিবাজার নয়। পুঁজিবাজারের দুটি বিষয় আছে। একটা হচ্ছে, আপনি ট্রেড করবেন, লাভ করবেন। আবার আপনি ইনভেস্টমেন্ট ধরে রাখবেন, যাতে ক্যাপিটাল গেইন পেতে পারেন। এটা দুঃখজনক যে, আমাদের এখানে ক্যাপিটাল গেইনের চিন্তা করা হয় না।

অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারের জন্য সরকারের তরফ থেকে যা যা করা দরকার তা করা হবে। কারণ, হাজার হাজার মানুষ পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুতরাং তাদের বাদ দিয়ে দেশের অর্থনীতি চিন্তা করা যায় না।

টাকা পাচারকারী রক্ষা পাবেন না : এসবি গ্রুপ টেরাকোটা টাইলসের নামে দেশে থেকে টাকা পাচার করেছে- এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে যেই করুক বা, তিনি যতই শক্তিশালী হোন, তার নিজের পরিবারের সদস্য হলেও শাস্তি পেতে হবে তাকে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সব ব্যবসায়ীকে চেনেন তিনি। ব্যবসায়ীদেরও তাকে চিনতে হবে। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশ এগোবে। শতভাগ ব্যবসায়ী সৎ হবেন না। শতভাগ মানুষ সৎ হবেন না; কিন্তু সৎ মানুষও আছে। এ সংখ্যাও কম নয়। অর্থমন্ত্রী এ সময় সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, ওই প্রতিষ্ঠানের যিনি টাকা পাচার করছেন, তার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কি-না? সাংবাদিকরা এ সময় অর্থমন্ত্রীকে জানান, এসবি এক্সিম নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ কর্মকাে র সঙ্গে জড়িত। শাহজাহান বাবলু নামে এক ব্যবসায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। শাহজাহানের বাড়ি কুমিল্লায়। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি তিনি (শাহজাহান বাবলু) করে থাকেন, তিনি যেই হোন, যত শক্তিশালী হন, তার বাড়ি যেখানেই হোক, তিনি যদি আমার পরিবারের সদস্যও হন তবু তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আসতে হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছর বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। এরই মধ্যে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। বছরশেষে এ সহায়তা ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেক অনেক পুরনো হিসাব নিয়ে এলে আমি পারব না। অতীতেরগুলো টেনে এনে আমাকে জরাজীর্ণ করবেন না। বর্তমানগুলোর দায়িত্ব আমার।

মশা আতঙ্কে অর্থমন্ত্রী : রসিকতা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরে ভোগার পর মশা নিয়ে আতঙ্কে আছি। এ জন্য তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। সেখানে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে) মশা বেশি। এ পর্যন্ত দু'বার কামড় দিয়েছে। একবার চিকুনগুনিয়া, আবার ডেঙ্গু। ভয়ে ওখানে আপাতত যাচ্ছি না। এখন থেকে সচিবালয়ে অফিস করবেন কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় দুই জায়গায়ই অফিস করব।