বরগুনায় রিফাত শরীফ খুনের আরেক হোতা রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে এ মামলার দুই নম্বর আসামি। গ্রেফতারের পর তাকে সাত দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন বরগুনার একটি আদালত। এ নিয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৫ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া রিফাত খুনের মূল হোতা সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতারের তথ্য জানান পুলিশের বরিশাল বিভাগের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। এ সময় বরগুনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ডিআইজি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে কোন জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের সুবিধার্থে গ্রেফতারের স্থানটি বলা যাচ্ছে না। পলাতক অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডিআইজি।

জানা গেছে, রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে হামলা, ভাংচুর, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয় সে। তবে আইনের ফাঁক গলে প্রতিবারই আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাইরে বেরিয়ে সে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ পর্যন্ত রয়েছে রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে। সে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক এমপি এবং বর্তমানে বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের আপন ভায়রার ছেলে।

রিফাত ফরাজী ছাড়াও এ মামলায় গ্রেফতার এজাহারভুক্তরা হলো- ৪ নম্বর আসামি চন্দন, ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান, ১১ নম্বর আসামি অলিউল্লাহ ওরফে অলি এবং ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয়। এ ছাড়া রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে সংশ্নিষ্টতার অভিযোগে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে নাজমুল হাসান, তানভীর, মো. সাগর, কামরুল হাসান সাইমুন ও রাফিউল ইসলাম রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে চন্দন ও হাসান সাত দিনের এবং সাগর, সাইমুন ও নাজমুল পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি মো. অলি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার মো. তানভীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ কয়েক যুবক প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। এ ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রিফাত শরীফের বাবা।



মন্তব্য করুন