বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সমীহ-জাগানিয়া দল তারা। তবে এখন পর্যন্ত একবারও বিশ্বসেরার শিরোপা যায়নি তাদের ঘরে; সর্বশেষ ছয় আসরে খেলা হয়নি সেমিফাইনালও। লক্ষ্য ছিল এবারের বিশ্বকাপ, যে বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করে গত চার বছরে নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেটকে অন্য এক উচ্চতায় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। শিরোপা জয় এখনও দূরের পথ, তবে গতকাল অন্তত নিজেদের 'রোডম্যাপ'-এর সঠিক পথে ফিরেছে ইয়ন মরগানের দল। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল।

১৯৯২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ চারে থাকছে ইংল্যান্ড।

সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেই হতো ইংল্যান্ডকে। চেস্টার-লি-স্ট্রিটের রিভারসাইড গ্রাউন্ডে গতকাল কাঙ্ক্ষিত সেই জয় পেয়েছে তারা; আগে ব্যাট করে ৩০৫ রান তুলে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ১১৯ রানে। নয় ম্যাচে ছয়টি জয় আর ১২ পয়েন্টে তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলো ইংল্যান্ডের। এর আগেই শেষ চার নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। নিউজিল্যান্ডের সামনেও সেমির পথ অনেকটাই প্রশস্ত। কারণ, তাদের টপকে সেমিফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তানকে জিততে হবে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ- বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে হবে ৩১৬ রানের ব্যবধানে।

'জিতলেই সেমিফাইনাল'- এমন সমীকরণের ম্যাচে গতকাল টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মরগান। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে সেঞ্চুরির পর গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ইংল্যান্ড ওপেনার জনি বেয়ারস্টো পান তিন অঙ্কের দেখা। বরাবরের মতো এদিনও বেয়ারস্টো এবং রয়ের উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা পায় ইংলিশরা। প্রথম ১০ ওভারে স্কোরকার্ডে ওঠে ৬৭ রান। দু'জনের জুটিতে ১৫তম ওভারেই দলীয় স্কোর তিন অঙ্ক ছোঁয়। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে ১০০ বা তার বেশি রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছেন রয় ও বেয়ারস্টো।

৯টি চারের সুবাদে ৪৬ বলে ফিফটিতে পৌঁছান বেয়ারস্টো। রয় অবশ্য ফিফটির পর খুব বেশিদূর যেতে পারেননি। জিমি নিশামের বলে টানা দুটি চার মারার পর ব্যক্তিগত ৬০ রানে কভারে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। বেয়ারস্টোর সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আরও ৭১ রান যোগ করেন জো রুট। ২৫ বলে ২৪ রান করে রুট ফেরেন ট্রেন্ট বোল্টের বলে।

টিম সাউদিকে চার মেরে নিজের নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বেয়ারস্টো। সেই সুবাদে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপের টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। তবে সেঞ্চুরি পাওয়ার পরপরই ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হন তিনি। তার ইনিংসটিতে ১৫টি চারের পাশাপাশি ছিল একটি ছক্কা। এরপর বোল্টের বলে ব্যক্তিগত ১১ রানে মিডঅফে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জস বাটলার।

কিউই বোলারদের দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হাত খুলে খেলতে পারেননি বেন স্টোকস ও মরগানের কেউই। তাদের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪৬ বলে আসে মাত্র ৩৪ রান। মিচেল স্যান্টনারকে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ১১ রানে সীমানায় ক্যাচ দেন স্টোকস। ৪০ বলে ৪২ রান করে মরগান আউট হন ম্যাট হেনরির বলে। শেষদিকে লিয়াম প্লাঙ্কেটের অপরাজিত ১৫ আর আদিল রশিদের ১৬ রানের ইনিংসে ইংলিশদের স্কোর ৩০০ ছাড়ায়। শেষ ওভারে রশিদকে আউট করেন সাউদি।

রান তাড়ায় প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলসকে হারায় নিউজিল্যান্ড। বিপর্যয় সামাল দেওয়ার পথেই ছিল কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলরের তৃতীয় উইকেট জুটি, দু'জন মিলে তুলেছিলেন ৪৭ রান। এ জুটি ভাঙে কেন উইলিয়ামসনের রানআউটে। মার্ক উডের বলটা সোজা খেলেছিলেন টেলর। বোলারের হাতে খানিকটা লেগে সেই বল আঘাত হানে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্পে, রান নিতে অগ্রসরমান উইলিয়ামসন তখন ক্রিজের বেশ খানিকটা বাইরে। ঠিক পরের ওভারে রানআউট হয়ে ফেরেন টেলরও। ফাইন লেগে বল ঠেলে দিয়ে দ্বিতীয় রান নেওয়ার সময় ক্রিজে ঢোকার আগেই স্টাম্প ভেঙে দেন বাটলার। ৬৯ রানে নেই নিউজিল্যান্ডের চার উইকেট।

সেই বিপর্যয় এরপর কাটাতে পারেনি কিউইরা। টম ল্যাথামের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ১৯ রানে উডের বলে বোল্ড হন নিশাম। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন স্টোকস। একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ল্যাথাম, তবে ফিফটির পর বেশিদূর যেতে পারেননি। ৫৭ রান করে লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের কেউই এর পর খেলতে পারেননি বলার মতো কোনো ইনিংস। কিউইরা গুটিয়ে যায় ১৮৬ রানেই। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রান ব্যবধানে এটিই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়। ৯ ওভারে ৩৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ইংলিশদের সফলতম বোলার উড। দারুণ ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন বেয়ারস্টো।

মন্তব্য করুন