বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে হাইকোর্টের সতর্কতা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বরগুনার শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।

হাইকোর্ট বলেন, 'আমরা (বিচার বিভাগ) কখনই নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এটা তাদের রুটিন ওয়ার্ক। যদি সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটে তখনই শুধু বিচার বিভাগ নির্দেশনা বা হস্তক্ষেপ করে থাকে। তবে আমার এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং (বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড) পছন্দ করি না। হয়তো প্রয়োজনের খাতিরে অনেক সময় জীবন বাঁচানোর তাগিদে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা করে থাকে। তবে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আইন যে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, সেটা যেন নিশ্চিত হয়।' আসামি নয়ন বন্ডের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেন, 'একদিনে এই নয়ন বন্ডরা তৈরি হয় না। কেউ না কেউ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। কেউ না কেউ লালন-পালন করে ক্রিমিনাল বানায়।'

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন।

এর আগে গতকাল সকালে রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে অগ্রগতি তুলে ধরেন রাষ্ট্র পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার একেএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার। তিনি আদালতকে বলেন, এ মামলার কোনো আসামি দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারেনি। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ জন এবং সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও আদালতকে জানান তিনি।

এ পর্যায়ে নয়ন বন্ড কীভাবে মারা গেল, তা জানতে চান হাইকোর্ট। জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ ছিল মামলার আসামিরা সেখানে অবস্থান করছে। পুলিশ সেখানে গিয়েছে এবং পুলিশের ওপর প্রথমে অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তখন পুলিশ নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য পাল্টা গুলি চালালে সেখানে একজন মারা যায়। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীও সেখানে ছুটে আসে। এলাকাবাসীই প্রথম নয়ন বন্ডকে শনাক্ত করে। তারপর তারা জানতে পারেন নিহত ব্যক্তিই নয়ন বন্ড ছিল। সেখানে তার গ্রুপ ০০৭-এর অন্য সদস্যরাও ছিল।

এ পর্যায়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে উল্লিখিত মন্তব্য করে হাইকোর্ট বলেন, 'তদন্ত হচ্ছে। আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করছি না। কিন্তু পরবর্তীতে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে জানতে চাইব। এই মামলাটি সব সময় হাইকোর্টের তদারকিতে থাকবে।'

গত ২৬ জুন বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ২৭ জুন বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তখন হাইকোর্ট রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে সতর্কতা জারি করতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়েও আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ সময় ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলও উপস্থিত ছিলেন।