এরশাদ ফের লাইফ সাপোর্টে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন এই বিরোধীদলীয় নেতাকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে লাইফ সাপোর্টে নেন চিকিৎসকরা। বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ জানিয়েছেন, এরশাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কাজ করছে না। স্বামীর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

গতকাল সন্ধ্যায় বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানান, অবস্থার অবনতি হলে বিকেলের দিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে লাইফ সাপোর্টে দেন চিকিৎসকরা। মানুষের দোয়া তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে। তার ফুসফুস ও কিডনি সংক্রমণের আরও অবনতি হয়েছে। তিনি নিঃশ্বাস নিতে ও ছাড়তে সমস্যা বোধ করছেন।

জিএম কাদের জানান, তারা এরশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিএমএইচের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার মতো অবস্থা নেই তার। এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের জানিয়েছিলেন, এরশাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।

দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে এরশাদকে দেখে তার স্ত্রী রওশন এরশাদ বলেন, জাপা চেয়ারম্যানের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম। তার অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদন করতে পারছে না। বার্ধক্যজনিত কারণে সমস্যা আরও বেড়েছে। আস্তে আস্তে তার শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। সিঙ্গাপুরে সব রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

স্বামীর জন্য নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে রওশন এরশাদ বলেন, সব কিছু আল্লাহর হাতে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে বাঁচাতে পারেন মানুষকে। ছেলে সাদ এরশাদকে পাশে নিয়ে এরশাদপত্নী বলেন, এখন সবকিছু আল্লাহর হাতে। তিনি দেশবাসী বিশেষ করে এরশাদের নিজ এলাকা রংপুরের মানুষের দোয়া চান।

৯০ বছর বয়সী সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ দীর্ঘদিন রক্তের রোগ মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে ভুগছেন। গত ২২ জুন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সিএমএইচে নেওয়া হয় তাকে। এরশাদ প্রায় বছরখানেক ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে তিন দফায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন তিনি। নির্বাচনের পর শপথ নিতে হুইলচেয়ারে বসে সংসদে যান। গত আট মাস ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি তাকে।

সিএমএইচে এরশাদকে দেখার পর জিএম কাদের বলেন, দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। এরশাদের সুস্থতা কামনা করে আজ শুক্রবার দেশের সব মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে জাতীয় পার্টি।

এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গতকাল বনানী কার্যালয়ে ভিড় করেন জাপার নেতাকর্মীরা। তারা বারবার দলের নেতাদের কাছে জানতে চান, এরশাদের সর্বশেষ কী অবস্থা? জাপার নেতারা সমকালকে বলেছেন, এরশাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। তিনি এ যাত্রা বেঁচে গেলেও হয়তো আর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারবেন না। জাপার নেতারা খারাপ খবরের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে বলেছেন কর্মীদের। এরশাদের কবর কোথায় হবে- এ সিদ্ধান্ত নিতে গত বুধবার জাপার যৌথসভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও।